ভোট তালিকা বিতর্কে উত্তাল রাজনীতি: কমিশনকে নিশানা করে ফের সুর চড়ালেন মমতা

কমিশনকে নিশানা করে ফের সুর চড়ালেন মমতা! নির্বাচন কমিশনের একটি পুরনো নথি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল পশ্চিমবঙ্গে। ছ’বছর আগের একটি নথিতে বিজেপির নাম ও প্রতীক-সহ স্ট্যাম্প ব্যবহারের বিষয়টি…

March 25, 2026
1 min read

কমিশনকে নিশানা করে ফের সুর চড়ালেন মমতা!

নির্বাচন কমিশনের একটি পুরনো নথি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল পশ্চিমবঙ্গে। ছ’বছর আগের একটি নথিতে বিজেপির নাম ও প্রতীক-সহ স্ট্যাম্প ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এনে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র তা প্রকাশ্যে আনতেই শুরু হয় বিতর্ক। এই ইস্যুতে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উত্তরবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিশনকে একাধিক প্রশ্নে বিঁধলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের নথিতে বিজেপির স্ট্যাম্প থাকা নিছক ভুল নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

মমতার কথায়, “এটা কি শুধুই ক্লারিক্যাল মিস্টেক, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?”— এই প্রশ্ন তুলে তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, কোনও দলকে আড়াল করে অন্য দলকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এর আগের রাতেই ভোটার তালিকা প্রকাশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ হওয়ায় তিনি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, তালিকা প্রকাশ করতে এত দেরি বা গোপনীয়তা কেন রাখা হল, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

মমতার অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও সময় নষ্ট করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের প্রভাবেই কাজ হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, একাধিক নির্বাচনী আধিকারিক ও রিটার্নিং অফিসারকে অযৌক্তিকভাবে বদলি করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।

তাঁর আরও দাবি, নন্দীগ্রামের বিডিও-কে ভবানীপুরে বদলি করা হয়েছে— যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই ধরনের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই মমতা সব বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, “বাম-ডান ভুলে যান। যারা এই ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে, তারা সবাই একসঙ্গে আসুন। মানুষের পাশে দাঁড়ান।”

তবে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিরোধীরা। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির উত্থানের জন্য তৃণমূলও সমানভাবে দায়ী। তাঁর দাবি, গণতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি রাজ্যের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সমান লড়াই প্রয়োজন।

অন্যদিকে, মমতা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন ভোটার তালিকা সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে তাঁর অবস্থানের কথা। তাঁর দাবি, আদালতের হস্তক্ষেপের কারণেই কিছু নাম তালিকায় এসেছে।

সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। কমিশন-বিজেপি যোগসাজশের অভিযোগ তুলে মমতার হুঁশিয়ারি, “এই এসআইআর-ই ওদের শেষ করবে”— যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়েছে।

মুক্তির আগেই বিপত্তি: ‘ধুরন্ধর ২’ প্রদর্শনে প্রযুক্তিগত জটিলতা, দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন Aditya Dhar

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *