কেরলে ফুটবল ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন!
কেরলে ভোটের আগে রাজনীতি যে কতটা অদ্ভুত মোড় নিতে পারে, তারই এক চমকপ্রদ উদাহরণ হয়ে উঠেছেন Lionel Messi। মাঠে নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এখন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
ঘটনার শুরু কয়েক মাস আগে। কেরল সরকার ঘোষণা করেছিল, মার্চ মাসে প্রীতি ম্যাচ খেলতে রাজ্যে আসবেন Argentina national football team— সঙ্গে থাকবেন Lionel Messi-সহ তাঁর সতীর্থরা। ফুটবলপ্রেমী কেরলে এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল। শহরের রাস্তায় রাস্তায় মেসির কাটআউট, পোস্টার— সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ।
কিন্তু সেই আশায় জল ঢালে হঠাৎই এক খবর— নির্ধারিত সময়ে কেরলে আসছে না আর্জেন্টিনা দল। আর এখান থেকেই শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিরোধীরা সরাসরি অভিযোগ তোলে, ভোটের আগে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে শাসক দল “ভোট টানার কৌশল” নিয়েছিল। তাঁদের দাবি, মেসির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
তবে পাল্টা আক্রমণে নামতে দেরি করেনি শাসক শিবিরও। কেরলের ক্রীড়ামন্ত্রী ভি আবদুরহিমান সরাসরি অভিযোগ করেন, Argentina national football team প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে। তাঁর দাবি, দলটিকে আনার জন্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা জোগাড় করা হয়েছিল এবং সেই অর্থ দেওয়ার পরেও তারা আসেনি।
মন্ত্রী বলেন, বহু বৈঠক, দীর্ঘ পরিকল্পনা— সব কিছুর পরেও শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক। তাঁর কথায়, “টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এটা শুধু আমাদের সঙ্গেই নয়, অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রেও ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
এখানেই থামেননি তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন, বিষয়টি আইনি পথে নিয়ে যাওয়ার কথাও ভাবছে সরকার। ক্ষতিপূরণ দাবি করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
এই বিতর্কে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা। কারণ, Lionel Messi-কে কাছ থেকে দেখার স্বপ্ন দেখছিলেন তাঁরা। সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশা স্পষ্ট।
কেরলের রাজনীতিতে ফুটবল বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের সময় রাজ্যের নানা প্রান্তে আর্জেন্টিনা-ব্রাজ়িল সমর্থকদের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। সেই আবেগই এবার রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ বাতিল হওয়ার ঘটনা নয়— বরং এটি দেখিয়ে দিল, কীভাবে জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদদের ঘিরে আবেগও নির্বাচনের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না