১৪৯ পুলিশ অফিসার সরাল কমিশন!
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে প্রশাসনে বড়সড় বদল আনল Election Commission of India। ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে একসঙ্গে ১৪৯ জন পুলিশ আধিকারিককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন ৮১ জন ইনস্পেক্টর এবং ৬৮ জন সাব-ইনস্পেক্টর। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এই অফিসাররা আর কোনও ভাবেই ভোট সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপারদের কাছ থেকে লিখিতভাবে নিশ্চয়তাও চাওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা ভোট প্রক্রিয়ায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ না করেন।
নির্দেশ অনুযায়ী, সরানো ইনস্পেক্টরদের নতুন দায়িত্বও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যেই তাঁদের নতুন পদে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, সাব-ইনস্পেক্টরদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশ জারি হয়েছে—অনেককেই নিজের জেলার বাইরে বদলি করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ না থাকে।
এই রদবদলের মাঝেই আলোচনায় উঠে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম—Supratim Sarkar। কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে ভোটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে পর্যবেক্ষক হিসেবে Tamil Nadu-তে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে কমিশন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন বলে জানা গেলেও, কমিশন সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। ফলে তাঁকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতেই হবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগেও ২৯ মার্চ প্রায় ১৫০ জন পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় আরও নাম যুক্ত হল। বিভিন্ন জেলা—কোচবিহার, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, বারাসত, বিধাননগর, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ একাধিক জায়গা থেকে এই অফিসারদের সরানো হয়েছে।
রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়—২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে চলে এসেছে, আর সেই থেকেই একের পর এক রদবদল চলছে। ইতিমধ্যে মুখ্যসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও বদল হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও কম নয়। শাসক দল All India Trinamool Congress ইতিমধ্যেই কমিশনের এই অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee একাধিক সভা থেকে এই বিষয়ে সরব হয়েছেন। বিশেষ করে সুপ্রতিম সরকারের বদলি এবং তাঁকে তামিলনাড়ু পাঠানো নিয়ে কড়া সমালোচনাও করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক এই রদবদল রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার, কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ ভোট প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?