ভোটের আগে দক্ষিণ কলকাতায় ইডির তৎপরতা!
বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সক্রিয়তা চোখে পড়ছে। বুধবার সকালেই দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই অভিযানের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কসবা এলাকার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যিনি ‘সোনা পাপ্পু’ নামে বেশি পরিচিত।
সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ তাঁর ফার্ন রোডের বাড়িতে পৌঁছন ইডি আধিকারিকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাও। শুধু তাঁর বাড়িই নয়, বালিগঞ্জ-সহ শহরের আরও কয়েকটি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে আগেই একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, হুমকি দেওয়া-সহ নানা বেআইনি কাজ। এই অভিযোগগুলির মধ্যে চার-পাঁচটি মামলাকে ভিত্তি করে গত কয়েক দিন ধরে তদন্ত চালাচ্ছিলেন আধিকারিকেরা। সেই অনুসন্ধানেরই পরিণতি এই তল্লাশি অভিযান।
প্রাথমিক তদন্তে ইডি জানতে পেরেছে, কসবা ও বালিগঞ্জ এলাকায় একাধিক সিন্ডিকেটের উপর তাঁর প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হত এবং সেই টাকা নাকি প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
এই অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বালিগঞ্জের একটি সংস্থা—‘সান এন্টারপ্রাইস’-এর অফিসেও তল্লাশি চলছে। আর্থিক তছরুপের অভিযোগে এই অভিযান হলেও, ওই সংস্থার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন।
রাজনৈতিক মহলেও এই অভিযান ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের দাবি, সোনা পাপ্পু দক্ষিণ কলকাতার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ঘনিষ্ঠ। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই নেতাকেও সম্প্রতি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল ইডি। তার কয়েক দিনের মধ্যেই এই অভিযান নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
এছাড়া, কিছু দিন আগে রবীন্দ্র সরোবর ও গোলপার্ক এলাকায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনাতেও সোনা পাপ্পুর নাম উঠে এসেছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, তাঁর অনুগামীরাই ওই অশান্তিতে জড়িত ছিল। যদিও নিজে সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে দক্ষিণ কলকাতায় ইডির এই তৎপরতা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই আলোড়ন ফেলেছে। তদন্ত এখনও চলছে, তাই সামনে আরও কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেটাই দেখার।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না