ভোটের আগে আদালতের প্রশ্নে জবাবদিহি!
ভোট যতই এগিয়ে আসছে, প্রশাসনিক স্তরে ততই বাড়ছে সতর্কতা। যাতে কোনওভাবেই আদালতের মুখোমুখি হয়ে অস্বস্তিতে না পড়তে হয়, সে কারণেই এবার সমস্ত দফতরের কাছে বড়সড় তথ্য চেয়ে পাঠাল নবান্ন। সরকারি সূত্র বলছে, সুপ্রিম কোর্ট কিংবা কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে যে সকল সরকারি কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের অধীনে গঠিত হয়েছে, তাদের কার্যকারিতা, গঠনের প্রক্রিয়া এবং কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত সম্পূর্ণ খতিয়ান এবার নবান্নে চেয়েছে মুখ্য সচিবের দপ্তর।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি দফতরের সচিবের কাছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমানে কতগুলি কমিটি সক্রিয় রয়েছে, সেগুলিতে কারা রয়েছেন, ক’টি বৈঠক ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো রিপোর্ট জমা পড়েছে কি না— সব তথ্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই লিখিত আকারে জমা দিতে হবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা সহ একাধিক দফতরের অধীনে আদালতের নির্দেশে বহু গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি কিংবা সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি ইতিমধ্যেই বহু বছর ধরে কাজ করছে। কিন্তু এই কমিটিগুলি আদৌ সক্রিয় রয়েছে কি না, নিয়মিত কাজ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
নবান্ন সূত্র জানাচ্ছে, ঠিক সেই আশঙ্কা থেকেই এবার আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। যাতে ভবিষ্যতে আদালতের প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে অসুবিধা না হয়, সে কারণেই প্রতিটি দফতরের সমস্ত কমিটির কার্যবিবরণী একত্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ নথিভাণ্ডার গড়ে তুলতে চায় নবান্ন।
নবান্নের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “বিভিন্ন সময় আদালতের নির্দেশে একাধিক কমিটি তৈরি হয়েছে, আবার কাজ শেষ হওয়ার পরে অনেক সময় তা ভেঙেও দেওয়া হয়। এই সমস্ত তথ্য একসাথে না থাকলে জবাবদিহি জটিল হয়ে পড়ে। এখন সেই অভাব পূরণ করাই মূল লক্ষ্য।”
যদিও এই তথ্য তলবের পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলেই দাবি করছে সরকার পক্ষ। তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আদালতের কাছে যাতে সরকারের কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন পড়লে তা নির্ভুলভাবে দেওয়া যায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই তথ্য সংগ্রহ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, একদিকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অন্যদিকে আদালতের চোখে বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট রাখতে ভোটের আগেই নিজের ‘হোমওয়ার্ক’ সেরে ফেলতে চাইছে নবান্ন।
বাড়ির খাবারেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল: প্রাতরাশে এই ৫ খাবার খাবেন না কেন?