ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন গতি!
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর থমকে থাকা কাজ আবার শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে। এবার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকেরা। সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ মেনে তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁদের হাতে।
এই কাজের জন্য কারা দায়িত্বে থাকবেন, তা ইতিমধ্যেই ঠিক করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিধানসভাভিত্তিকভাবে বিচারকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকেই তাঁরা নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন।
ভার্চুয়াল বৈঠকে স্পষ্ট করা হল দায়িত্ব
কাজ শুরু হওয়ার আগে রবিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে বিচারকদের বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়— কোন নথি গ্রহণযোগ্য, কীভাবে যাচাই করতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এই বৈঠকের নেতৃত্ব দেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও।
প্রতিটি জেলায় নজরদারি কমিটি
এসআইআর-এর কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় একটি করে তদারকি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এই কমিটিতে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা বিচারক, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার। তাঁদের কাজ হবে পুরো প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা।
কীভাবে চলবে যাচাই প্রক্রিয়া
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের জন্য আলাদা লগ-ইন আইডি তৈরি করা হবে। সেই আইডি ব্যবহার করে তাঁরা কমিশনের পোর্টালে প্রবেশ করে নথি যাচাই করবেন।
প্রথমে বিচারককে জানাতে হবে তিনি কোন বিধানসভা এলাকার কাজ করছেন। এরপর বুথভিত্তিক ভোটার তালিকা দেখতে পাওয়া যাবে। প্রতিটি ভোটারের ক্ষেত্রে দুটি অংশ থাকবে—
- জমা দেওয়া নথি ও এনুমারেশন ফর্ম
- সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকদের মন্তব্য ও স্ক্রুটিনি রিপোর্ট
সব নথি যাচাই করে বিচারক সিদ্ধান্ত দেবেন— নাম “গৃহীত” হবে নাকি “বাতিল”। পাশাপাশি তাঁদের পর্যবেক্ষণও লিখে রাখতে হবে।
সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার কথা। হাতে সময় খুবই কম থাকায় কাজ শেষ করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সব বিচারকের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটার তালিকা সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যায়ে বিচারকদের সরাসরি যুক্ত হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দ্রুততা— দুটোই বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই