ভাল ছবির পাশে দাঁড়াতে হয় না: ‘দেবী চৌধুরাণী’ ও ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-র অপ্রত্যাশিত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শুভ্রজিৎ

‘দেবী চৌধুরাণী’ ও ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-র অপ্রত্যাশিত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শুভ্রজিৎ! পুজোর মরসুমে মুক্তি পাওয়া চারটি বাংলা ছবি—‘রঘু ডাকাত’, ‘রক্তবীজ ২’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ এবং ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’—এর মধ্যে প্রথম দুটি নিয়ে…

October 1, 2025
1 min read

‘দেবী চৌধুরাণী’ ও ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-র অপ্রত্যাশিত সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শুভ্রজিৎ!

পুজোর মরসুমে মুক্তি পাওয়া চারটি বাংলা ছবি—‘রঘু ডাকাত’, ‘রক্তবীজ ২’, ‘দেবী চৌধুরাণী’ এবং ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’—এর মধ্যে প্রথম দুটি নিয়ে ছিল সবচেয়ে বেশি চর্চা। বড় বাজেট ও তারকাখচিত প্রচারে ‘রঘু ডাকাত’ ও ‘রক্তবীজ ২’ প্রথম থেকেই নজরে ছিল। ফলে অনীক দত্তের ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ এবং শুভ্রজিৎ মিত্রের ‘দেবী চৌধুরাণী’ অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দর্শকরাই বদলে দিলেন খেলার মোড়। বড়সড় প্রচার ছাড়াই দুটি ছবিই প্রেক্ষাগৃহে দুর্দান্ত সাফল্য পাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে এই দুটি ছবি উপভোগ করছে, জানিয়েছেন অনীক দত্ত। শুভ্রজিতের মন্তব্য আরও সোজাসাপ্টা—“ভাল ছবি বানালে দর্শকের সমর্থন চাইতে হয় না, তারা নিজেরাই হলে আসেন।”

তবে এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ‘দেবী চৌধুরাণী’ বানানোর সময় বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন শুভ্রজিৎ। তাঁর কথায়, “যতটা যত্ন নিয়ে ছবি বানাতে চেয়েছিলাম, শারীরিক কারণে সেটা পারিনি।” প্রায় আড়াই বছর ধরে ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। এমনকি ছবির মুখ আবীর চট্টোপাধ্যায়ও প্রচারে অংশ নিতে পারেননি। পাশাপাশি নানা সমালোচনা, কটাক্ষ ও সন্দেহের মুখে পড়তে হয়েছিল পরিচালককে—অনেকে তো বলেছিলেন, এই ছবি নাকি আদৌ তৈরি হবে না!

তবুও শুভ্রজিৎ কোনও কিছুই গায়ে না মেখে নিজের কাজ করে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমার কাজ ছবি বানানো। মন দিয়ে সেটা করেছি। বাকিটা দর্শক ঠিক করে।” আর দর্শকেরা তাঁকে নিরাশ করেননি।

শুধু দর্শকরাই নন, প্রেক্ষাগৃহ ও পরিবেশকরাও প্রশংসায় পঞ্চমুখ। স্টার থিয়েটারের কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সপ্তমী থেকেই ‘দেবী চৌধুরাণী’তে হাউসফুল বোর্ড ঝুলছে। অনীকের ছবিও প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল করছে। প্রিয়া প্রেক্ষাগৃহের মালিক অরিজিৎ দত্ত এবং পরিবেশক শতদীপ সাহাও বলছেন, ছবিগুলি প্রত্যাশার থেকেও অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছে।

‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-এর প্রযোজক ফিরদৌসল হাসানের মতে, তাঁদের ছবির সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। “পুজো বাঙালিদের উৎসব। আমাদের ছবির কোনও দৃশ্য বা গানে বাইরের সংস্কৃতির ছায়া নেই। এটাই দর্শককে ছুঁয়েছে,” বলেন তিনি। তিনি আরও জানান, ছবির শেষে টাইটেল গানের তালে এক শিশু নাচতে শুরু করেছিল—এই স্বতঃস্ফূর্ততাই প্রমাণ করে ছবিটি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। মুখে মুখে প্রচারও ছবির জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।

যদিও ফিরদৌসলের কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে। তাঁর মতে, “১০০টি প্রদর্শনের মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রেক্ষাগৃহ ভর্তি হয়েছে। যদি আরও বেশি শো বা স্ক্রিন পেতাম, ফলাফল আরও ভালো হতো।” শুভ্রজিতের মতে, গবেষণাভিত্তিক ও চিন্তাধর্মী ছবি সবসময় এক শ্রেণির দর্শকের মন টানে, আর তাঁর ছবিও সেই জায়গাতেই পৌঁছেছে।

অনীক দত্তও নিজের সীমাবদ্ধতার কথা খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। “যতটা যত্ন নিয়ে ছবি বানানো উচিত ছিল, সেটা পারিনি। তবু দর্শকের ভালো লাগছে, এটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি,” বলেন তিনি।

সব মিলিয়ে, প্রচার-প্রতিযোগিতা ছাপিয়ে দর্শকের রায় একটাই—ভালো ছবি হলে তাকে পাশে দাঁড় করাতে হয় না, মানুষ নিজেরাই পাশে দাঁড়ায়। ‘দেবী চৌধুরাণী’ এবং ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-র সাফল্য সেই কথারই প্রমাণ।

পুজোর আনন্দে সুস্থ থাকুন: পুষ্টিবিদের ৫টি সহজ টোটকা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *