আন্তর্জাতিক মঞ্চে বললেন মোদী!
দেশে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লিতে ব্লুমবার্গের ইকোনমিক ফোরামে তিনি ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, নানা ভাষা ও মতের মানুষ এ দেশে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি খোলাখুলি প্রকাশ করতে পারেন।
বৈচিত্র্য ও মতপ্রকাশের উপর জোর
মোদী বলেন, ভারতে বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন মত নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা ও বিতর্ক হয়। দেশের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, ভারতে ১০০টিরও বেশি ভাষা, প্রায় ৮০ হাজার সংবাদপত্র ও প্রকাশনা এবং এক হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল রয়েছে। এর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেন। এই বৈচিত্র্যই ভারতকে নানা মতের আলোচনার ক্ষেত্র করে তুলেছে বলে মনে করেন তিনি।
সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে মোদী বলেন, নাগরিকদের শাসনব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল করে রাখা নয়, বরং তাঁদের ক্ষমতায়ন করাই হওয়া উচিত প্রশাসনের লক্ষ্য।
সংস্কার ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির বার্তা
ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ধারাবাহিক সংস্কারের উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন অন্যের ক্ষতি করে নয়, বরং বিশ্বকে সঙ্গে নিয়েই হওয়া উচিত।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘোষণার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মোদী। তাঁর মতে, অনিশ্চয়তায় ভরা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতার উদাহরণ হয়ে উঠছে।
তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি জ্বালানি, সরবরাহ-শৃঙ্খল, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও প্রযুক্তিকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক চাপ নিয়েও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রগুলি ক্রমশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত
মোদীর এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন জোরদার হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধীরা আন্দোলনে নেমেছে। সেই অভিযোগের জেরে দিল্লিতে রাজনৈতিক চাপানউতরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের আন্দোলন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে বিভিন্ন মহলের।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন ঘিরেও কেন্দ্রকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ধরনের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।