ভারতে বন্ধ রয়টার্স-সহ তিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্ট, কেন্দ্র দিল্লির বিবৃতিতে জানাল অবস্থান

ভারতে বন্ধ রয়টার্স-সহ তিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্ট রবিবার সকাল থেকে ভারতের এক্স (পূর্বতন টুইটার) ব্যবহারকারীরা বিস্মিত। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-সহ চিন ও তুরস্কের দুটি সরকারি সংবাদমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারত…

July 6, 2025
1 min read

ভারতে বন্ধ রয়টার্স-সহ তিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্ট

রবিবার সকাল থেকে ভারতের এক্স (পূর্বতন টুইটার) ব্যবহারকারীরা বিস্মিত। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-সহ চিন ও তুরস্কের দুটি সরকারি সংবাদমাধ্যমের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারত থেকে আর খোলা যাচ্ছে না। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে বার্তা—“আইনি দাবির প্রেক্ষিতে ভারতে এই অ্যাকাউন্টটি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।” ঠিক কী ধরনের ‘আইনি দাবি’, তা স্পষ্ট না হলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে—এই ঘটনায় তাদের কোনও হাত নেই।

রয়টার্স ছাড়াও এক্স থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে চিনের গ্লোবাল টাইম্‌স এবং তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ডের অ্যাকাউন্ট। যদিও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট এখনও চালু রয়েছে এবং ভারত থেকে সেখানে প্রবেশ করা যাচ্ছে। তবে এক্স প্ল্যাটফর্মে যাঁরা নিয়মিত এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে সংবাদ পেতেন, তাঁদের জন্য এটি তাৎক্ষণিক অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার পরপরই কেন্দ্রের তরফে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। বলা হয়েছে, “রয়টার্স বা অন্য কোনও সংবাদমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক করার জন্য ভারত সরকার কোনও বাধ্যবাধকতা দেয়নি।” পাশাপাশি এটাও জানানো হয় যে, এক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টগুলির বিরুদ্ধে ‘পুরনো অভিযোগের ভিত্তিতে’ পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল, যা দেরিতে কার্যকর হয়েছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই অ্যাকাউন্টগুলি পুনরায় চালু করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্লকিংয়ের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দ্ব বা কূটনৈতিক টানাপড়েনের যোগ নেই বলেই মনে হচ্ছে। যেমন, ব্রিটেনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও রয়টার্সের অ্যাকাউন্ট কেন বন্ধ হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। অন্য দিকে, তুরস্ক ও চিন অতীতে পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে সমর্থন করায় তাঁদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিছুটা শীতল। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় চিন ও তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল নয়াদিল্লিতে। এমনকি তুরস্কের সংস্থা সেলেবির বিমানবন্দর কার্যকলাপ নিয়েও ভারত কড়া পদক্ষেপ নেয়।

তবে এটাও ঠিক, ভারতের পক্ষ থেকে এমন কোনও সরকারি নির্দেশ পাওয়া যায়নি বলেই দাবি করছে সরকার। বরং কেন্দ্র বলছে, এটি সম্পূর্ণরূপে এক্স-এর নিজস্ব প্রযুক্তিগত বা নীতিগত সিদ্ধান্ত, যা কোনও স্বতন্ত্র বা স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার ফলেও হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগেও সংঘাতকালীন পরিস্থিতিতে ভারত একাধিক পাক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছিল। পাকিস্তানও পাল্টা বহু ভারতীয় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। তবে সেগুলি ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। এবার ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকেও একই পরিণতির শিকার হতে দেখে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, হয়তো অদৃশ্য কোনও নীতি বা রিপোর্টিং-এর কারণে এক্স নিজেই পদক্ষেপ নিয়েছে।

পরিস্থিতি এখন নজরদারির পর্যায়ে। এক্স ব্যবহারকারীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—আবার কবে খুলবে তাঁদের প্রিয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর অ্যাকাউন্ট। এই ঘটনায় ভারতের ডিজিটাল মাধ্যমে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রবাহ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

গলওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সলমন খান! ভাইজানের নতুন ছবির পেছনে রয়েছে ভারতের সাহসী ইতিহাস

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *