ভাতের পাতে নুন না হলে চলে না?
ভাতের সঙ্গে এক চিমটে কাঁচা নুন—এ যেন বাঙালির অঘোষিত রীতিই। কেউ কেউ তো কাঁচা নুন ছাড়া ভাতই গিলতে পারেন না! শুধু তাই নয়, বিকেলের স্ন্যাকস বলুন বা সন্ধেবেলার মুখরোচক খাওয়া—চপ, সিঙ্গাড়া, মুচমুচে ভাজাভুজি—সবেতেই চাই একটু বেশি নোনতা স্বাদ। কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, এই ‘নোনতা খাওয়ার ইচ্ছে’ বা ‘সল্ট ক্রেভিং’-এর পেছনে কি শুধুই রসনাতৃপ্তি, নাকি লুকিয়ে রয়েছে শরীরের গভীর কোনো সংকেত?
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, শরীরে জল ও খনিজ লবণের ঘাটতি হলেই নাকি আমাদের বেশি নুন খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যাপারটা অতটা সরল নয়।
হরমোনের গোলমালই কি নেপথ্যে?
ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন-এর গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত নুন খাওয়ার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে এক ধরনের স্টেরয়েড হরমোন—অ্যাল্ডোস্টেরন। এই হরমোনটি শরীরের অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং আমাদের রক্তচাপ ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।
এই হরমোন যখন স্বাভাবিক মাত্রা থেকে সরে যায়, তখন শরীর অতিরিক্ত সোডিয়াম শোষণ করতে চায়, ফলে আমাদের মনে হয়, বেশি করে নুন খেলে ভালো লাগবে। পাশাপাশি শরীরে জমতে থাকে পটাশিয়াম, যার ফলে দেখা দিতে পারে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, কিডনি সমস্যার ঝুঁকি, এমনকি ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালান্সও।
ঘুম না হলে আর চাপ বাড়লে বাড়ে নুন খাওয়ার ইচ্ছে
তবে শুধু হরমোন নয়, আরও কিছু দৈনন্দিন কারণেও হতে পারে সল্ট ক্রেভিং। যেমন:
- কম ঘুম বা অনিদ্রা: ঘুম ঠিক না হলে শরীর ক্লান্ত থাকে, এবং ব্রেন চায় দ্রুত শক্তি, যার ফলে বাড়ে নোনতা খাওয়ার ইচ্ছে।
- অতিরিক্ত ঘাম: যাঁরা প্রচণ্ড ঘামেন, তাঁদের শরীর থেকে খনিজ লবণ দ্রুত বেরিয়ে যায়, ফলে বেশি নুন খাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
- মানসিক চাপ বা উদ্বেগ: স্ট্রেসের সময় অনেকেরই ঝোঁক বাড়ে স্ন্যাকস বা নোনতা খাবারের দিকে।
কিছু জটিল রোগও দায়ী হতে পারে
‘সল্ট ক্রেভিং’ কখনও কখনও জিনঘটিত বা জটিল রোগের লক্ষণও হতে পারে। যেমন:
- বার্টার সিন্ড্রোম: এই জেনেটিক রোগে শরীর থেকে সোডিয়াম দ্রুত বেরিয়ে যায়, ফলে পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হয়। এতে রক্তচাপ কমে, কোষ্ঠকাঠিন্য ও কিডনির পাথর হতে পারে।
- সিস্টিক ফাইব্রোসিস: এই রোগে ফুসফুস ও বিপাকক্রিয়া ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীর আরও বেশি লবণ চায়।
উপসংহার
ভাতের সঙ্গে নুন কিংবা বিকেলে সিঙ্গাড়ার প্রতি দুর্বলতা হতেই পারে। কিন্তু যদি হঠাৎ করেই নোনতা খাওয়ার প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তাহলে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ, ‘সল্ট ক্রেভিং’ শুধু জিভের দাবি নয়, বরং শরীরের ভেতর থেকে ভেসে আসা এক সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে মহাগঠবন্ধন: একসঙ্গে সব আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা তেজস্বী যাদবের