ভাঙড়ে শোকের ছায়া: স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার

ভাঙড়ে শোকের ছায়া ভাঙড়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শনিবার রাতে ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটেছে ভাঙড়ের চন্দনেশ্বর এলাকায়। একই বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে স্বামী-স্ত্রী মোশারফ পিয়াদা (৫০) এবং শাহানারা বিবির (৪৬)…

October 27, 2024
1 min read

ভাঙড়ে শোকের ছায়া

ভাঙড়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শনিবার রাতে ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটেছে ভাঙড়ের চন্দনেশ্বর এলাকায়। একই বাড়ি থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে স্বামী-স্ত্রী মোশারফ পিয়াদা (৫০) এবং শাহানারা বিবির (৪৬) মৃতদেহ। এ ঘটনার পর এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে মোশারফ এবং শাহানারার মৃতদেহ তাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। দুজনের শরীরেই অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে স্পষ্ট যে, তাঁদের হত্যার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত। বাড়ির সামনে রাস্তায়ও রক্তের দাগ দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়।

মৃতদ্বয়ের মেয়ের অভিযোগ, তাঁদের বাবা-মাকে খুন করেছে বাইরের কেউ। শনিবার রাতে তিনি মোবাইলে বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কোনো ঝগড়া বা গোলমাল হয়নি বলেই দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মাকে কেউ কুপিয়ে হত্যা করেছে। মা গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি ভাঙা হয়েছে। আমি রাতেই দুজনের সঙ্গে ভিডিও কল করে হাসাহাসি করেছি, আর সকালে উঠে শুনলাম, দুজনেই নেই!” এই ঘটনার জন্য তিনি প্রশাসনের কাছে বিচারের আবেদন করেছেন।

ভাঙড় থানার পুলিশ এবং লালবাজারের হোমিসাইড শাখার অফিসারেরা ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং তদন্ত শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দুটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে, সেখান থেকে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত খুন, কিন্তু কে বা কারা এ হত্যার পেছনে রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

শহরের পরিবেশে এমন একটি নির্মম ঘটনার প্রভাব পড়ে। নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে স্থানীয়রা ভিড় জমান এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচারের দাবি জানাতে থাকেন। এলাকাবাসী এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে বলেন, “এটা আমাদের সমাজের জন্য লজ্জার!”

এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত কার্যক্রম শুরু করেছে, যাতে ঘটনা দ্রুত স্পষ্ট হয় এবং দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের ফলাফল কেমন হয় এবং পরিবারটিকে কখন ন্যায় দেওয়া যায়।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *