‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এ নয়, এআই কৌশলেই হলিউডে কাজলের নাম!
বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসা কুড়িয়ে নেওয়া অভিনেত্রী Kajol—হঠাৎ করেই নেটদুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিলেন। কারণ, কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে তাঁকে দেখা গেল জনপ্রিয় হলিউড সিরিজ় Stranger Things-এর ভয়ের জগতে! প্রশ্ন উঠল—তবে কি বলিউড পেরিয়ে সত্যিই হলিউডে পা রাখলেন কাজল?
ভিডিয়োটিতে কাজলের মুখ রক্তমাখা, চোখে ভয়ংকর চাহনি—দেখতে অবিকল ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর কুখ্যাত দৈত্য ভেকনার মতো। এই ক্লিপ ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে ধরে নিলেন, সিরিজ়ের শেষ সিজ়নে বিশেষ কোনও চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। কারণ, সিরিজ়ের পঞ্চম ও শেষ সিজ়ন ইতিমধ্যেই মুক্তি পেয়েছে—প্রথম ভাগ নভেম্বরেই, আর দ্বিতীয় ভাগ বড়দিনে। ঠিক এই সময়েই ভাইরাল হয় ভিডিওটি, ফলে গুঞ্জন আরও জোরদার হয়।
কিন্তু আসল সত্যটা একটু আলাদা।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, এই ভিডিওটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্যে তৈরি। কাজলের মুখাবয়ব নিখুঁত ভাবে বসানো হয়েছে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর একটি দৃশ্যে। যে দৃশ্যটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি আদতে কাজলের সাম্প্রতিক ছবি ‘মা’-এর ক্লাইম্যাক্সের অংশ—সেখান থেকেই মুখের অভিব্যক্তি কেটে এনে এআই প্রযুক্তি দিয়ে নতুন প্রেক্ষাপটে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাস্তবে কাজল সিরিজ়ে অভিনয় করেননি।
তবে এই ঘটনায় একটা বিষয় পরিষ্কার—কাজলের জনপ্রিয়তা আজও কতটা ব্যাপক। কয়েক সেকেন্ডের এআই-ভিডিওই যদি মানুষকে এতটা বিশ্বাস করাতে পারে, তা হলে হলিউডে কাজলকে দেখার কল্পনা যে দর্শকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটাই বোঝায়। নেটাগরিকদের একাংশ যেমন হতাশ হয়েছেন সত্যিটা জানার পরে, তেমনই অনেকে বলছেন—“এটা যদি সত্যি হত, মন্দ হত না!”
উল্লেখ্য, বিয়ের পরে কিছু বছর কাজ কমালেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার চুটিয়ে কাজ করছেন কাজল। ভিন্নধর্মী চরিত্র বাছাই, শক্তিশালী অভিনয়—সব মিলিয়ে তিনি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। তাই হলিউডে তাঁর নাম জড়ানোয় অনেকেরই মনে হয়েছে, এ বার বুঝি সত্যিই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন যাত্রা শুরু করলেন তিনি।
যদিও আপাতত ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ কেবলই একটি ভাইরাল গুজব। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, এআই প্রযুক্তির যুগে সত্য আর কল্পনার ফারাক বোঝা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট—দর্শক আজও কাজলকে যে কোনও বড় মঞ্চে দেখতে প্রস্তুত।
হলিউডে কাজলের সত্যিকারের অভিষেক কবে হবে, তা ভবিষ্যতের হাতে। তবে আপাতত, এই ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ অধ্যায় থেকে পাওয়া গেল একটাই কথা—ভাইরাল মানেই বাস্তব নয়।