ভয়াবহ ‘হিমালয়ান কম্পন’-এ কেঁপে উঠতে পারে গোটা উত্তর ভারত, ধ্বংস হতে পারে কোটি কোটি জীবন!

হিমালয়ান কম্পন! নির্বাক করে দিচ্ছে একের পর এক ভূমিকম্প। মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে মায়ানমারে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জমি—ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা অঞ্চল। আর সেই কম্পনের ছায়া ঘনিয়ে আসছে ভারতের উপরেও।…

April 14, 2025
1 min read

হিমালয়ান কম্পন!

নির্বাক করে দিচ্ছে একের পর এক ভূমিকম্প। মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে মায়ানমারে ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জমি—ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা অঞ্চল। আর সেই কম্পনের ছায়া ঘনিয়ে আসছে ভারতের উপরেও। গবেষকদের আশঙ্কা, একটি ভয়াবহ ‘মেগা ভূমিকম্প’ শীঘ্রই আছড়ে পড়তে পারে হিমালয় এলাকায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। সম্ভাব্য প্রাণহানি? প্রায় ৩০ কোটির বেশি!

কেন এত ভয়ঙ্কর এই আশঙ্কা?

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির ভূবিজ্ঞানী ক্রিস গোল্ডফিঙ্গার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“মাটি কাঁপবে, সরেও যাবে। শুধু আমরা জানি না কোথায়, আর কখন!” তাঁর সতর্কতা আরও ভয়াবহ করে তুলেছেন মার্কিন গবেষক রজার বিলহাম, যিনি জানিয়েছেন—ভারতের টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে তিব্বতের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এই ঘর্ষণের ফলে ভয়ঙ্কর শক্তি জমা হচ্ছে মাটির তলায়। সেই শক্তির মুক্তি মানেই একটি মহাবিপর্যয়।

কোন কোন শহরে বিপদের মুখে?

বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫৯% জমি ভূমিকম্পপ্রবণ। এর মধ্যে উত্তরাখণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ, বিহার, এবং উত্তর-পূর্ব ভারত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু শুধু পাহাড়ি রাজ্যই নয়, দিল্লি, মুম্বই ও কলকাতার মতো মহানগর গুলিও রয়েছে ভয়াবহ ফল্ট লাইনের উপর, যেখান থেকে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভূমিকম্পের ঢেউ।

সম্প্রতি রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা ছিল শুধুই একটি হালকা ঝাঁকুনি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে, এটি হয়তো এক বড় ধাক্কার পূর্বাভাস।

মায়ানমার থেকে ভারতের দিকে ছায়া

গত ২৮ মার্চ মায়ানমারে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.৭। গবেষকরা বলছেন, এটি ৩০০টি পারমাণবিক বোমার সমান শক্তি নির্গত করেছে। দ্বিতীয়বার ১৩ এপ্রিল ফের সেখানে ভূকম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৬। এই ঘটনায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ভারতের সেনা ইতিমধ্যেই সেখানে ‘অপারেশন ব্রহ্মা’ শুরু করেছে।

এই ক্রমাগত কম্পনের ফলে ভারতের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে ভূকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে বলেই মত গবেষকদের।

ভারতের প্রস্তুতি কতটা?

বিশ্লেষকদের মতে, এখনও ভারতের বহু শহরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক নির্মাণের কোনও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেই। ভুজ ভূমিকম্প (২০০১) কিংবা নেপাল কম্পনের (২০১৫) অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নেওয়া হয়নি। বহু পুরনো শহরের মতো কলকাতার বহু ভবনও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনও বড় ভূমিকম্পে মুহূর্তেই সেগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে।

কী করণীয়?

আশঙ্কা যেহেতু প্রকট, তাই এখনই সময় প্রস্তুতি নেওয়ার। শহরগুলিকে শক্তপোক্ত ভূমিকম্প প্রতিরোধী অবকাঠামোতে রূপান্তরিত করতে হবে। গৃহনির্মাণে আনতে হবে কঠোর নিয়ম। নয়তো এক দিন, এক ঝটকায়—ধ্বংস হয়ে যেতে পারে কোটি কোটি মানুষের জীবন, ইতিহাস হয়ে যেতে পারে শহরগুলো।

অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদ, আর ইউসুফ পঠান ‘ফুরফুরে চা’-এ মশগুল! ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *