কবে হনুমান জয়ন্তী ও কীভাবে করবেন পুজো?
রামনবমীর পর ভক্তদের কাছে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ তিথি এসে উপস্থিত—Hanuman Jayanti। এই দিনটি উৎসর্গ করা হয় ভগবান Hanuman-এর প্রতি, যিনি শক্তি, ভক্তি এবং সাহসের প্রতীক। রামায়ণে Lord Rama-র প্রতি তাঁর অটুট ভক্তির কাহিনি আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
‘সঙ্কটমোচন’ নামে পরিচিত হনুমানজির আরাধনা করলে জীবনের নানা বাধা কাটে, আত্মবিশ্বাস বাড়ে—এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের। তাই এই বিশেষ দিনে নিয়ম মেনে পুজো করলে অনেকেই মানসিক শান্তি ও শক্তি লাভ করেন।
📅 কবে পড়ছে হনুমান জয়ন্তী ২০২৬?
চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতেই এই উৎসব পালিত হয়।
- তিথি শুরু: ১ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৭:০৭
- তিথি শেষ: ২ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ৭:৪২
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২ এপ্রিল ভোরে তিথি থাকার কারণে এই দিনই হনুমান জয়ন্তী পালিত হবে।
🪔 কীভাবে করবেন পুজো? সহজ নিয়ম জানুন
এই দিনটি ভক্তিভরে পালন করতে চাইলে কিছু নিয়ম মেনে চলা শুভ বলে মনে করা হয়—
১. সকালেই শুদ্ধি ও প্রস্তুতি
ভোরে উঠে স্নান সেরে নিন। সম্ভব হলে নদীতে স্নান করুন, না হলে বাড়িতেই। এরপর লাল, হলুদ বা কমলা রঙের পরিষ্কার পোশাক পরুন।
২. অভিষেকের নিয়ম
বাড়িতে হনুমানজির মূর্তি থাকলে ঘি, দুধ, দই, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করুন। পরে পরিষ্কার জল দিয়ে মূর্তি ধুয়ে নিন—এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. সিঁদুর ও ফুল অর্পণ
হনুমানজির শরীরে কমলা রঙের সিঁদুর লাগান। চামেলির তেল মিশিয়ে দিলে আরও শুভ মনে করা হয়। লাল জবা, তুলসীপাতা ও লাল ফুলের মালা নিবেদন করুন। একটি পানপাতায় সিঁদুর দিয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ লিখে অর্পণ করলে তা বিশেষ ফলদায়ক বলে ধরা হয়।
৪. নৈবেদ্য প্রদান
গুড়, ছোলা, লাড্ডু (বিশেষত কমলা রঙের), কলা—এই সব নৈবেদ্য দেওয়া শুভ। চাইলে নিজের হাতে হালুয়াও তৈরি করে নিবেদন করতে পারেন।
৫. আরতি ও প্রার্থনা
ধূপ জ্বালিয়ে ঘি ও লবঙ্গ দিয়ে প্রদীপ প্রজ্বলন করুন। এরপর আরতি করে নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করুন এবং ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চান।
৬. হনুমান চালিসা পাঠ
পুজোর শেষে অন্তত তিন বার হনুমান চালিসা পাঠ করুন। এতে মানসিক শক্তি বাড়ে বলে বিশ্বাস।
🙏 মন্দিরে পুজো করলে কী করবেন?
যদি মন্দিরে গিয়ে পুজো করার পরিকল্পনা থাকে, তবে সঙ্গে রাখুন তুলসীপাতা, লাল ফুল, কলা ও মিষ্টি। সেখানে বসেই ভক্তিভরে হনুমান চালিসা পাঠ করুন এবং প্রদীপ জ্বালান।
🌼 কেন এত গুরুত্ব এই দিনের?
হনুমান জয়ন্তী শুধু ধর্মীয় আচার নয়—এটি এক ধরনের মানসিক শক্তির উৎস। বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক ভক্তি থাকলে জীবনের ভয়, সংশয় ও বাধা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেন বজরংবলী।
সুতরাং, নিয়ম মেনে না পারলেও, অন্তর থেকে ভক্তি নিয়ে এই দিনটি পালন করলেই তার আসল তাৎপর্য পূর্ণ হয়। 💛