ব্যাটে ঝলক, মনে খচখচ— প্রত্যাবর্তনে নজর কাড়লেও এক ফেলা ক্যাচেই আফসোসে ভাসছেন রিঙ্কু সিংহ

এক ফেলা ক্যাচেই আফসোসে ভাসছেন রিঙ্কু সিংহ! ফিরে এসে ব্যাটে আগুন ঝরালেন, দলকে তুললেন লড়াকু স্কোরে— তবু মুখে হাসি নেই। নাগপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে রিঙ্কু সিংহের ব্যাটিং ইনিংস দেখলে যে…

January 22, 2026
1 min read

এক ফেলা ক্যাচেই আফসোসে ভাসছেন রিঙ্কু সিংহ!

ফিরে এসে ব্যাটে আগুন ঝরালেন, দলকে তুললেন লড়াকু স্কোরে— তবু মুখে হাসি নেই। নাগপুরে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে রিঙ্কু সিংহের ব্যাটিং ইনিংস দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৪৪ রান, শেষ ওভারে ঝড়ো ব্যাটিং, আর তাতেই ভারতের রান দাঁড়াল ২৩৮। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণ করার আদর্শ সুযোগে পুরো নম্বর পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ম্যাচ শেষে রিঙ্কুর চোখে-মুখে ধরা পড়ল অন্য ছবি— একরাশ আফসোস।

কারণটা ব্যাটে নয়, ফিল্ডিংয়ে। বাউন্ডারির ধারে ঝাঁপিয়ে বেশ কয়েকটি চার বাঁচিয়েছেন তিনি। এমনকি একবার নিশ্চিত ছক্কা বাঁচিয়ে দলকে স্বস্তিও দিয়েছেন। কিন্তু সব কিছুর মাঝেই একটি ক্যাচ ফসকে গিয়েছে তাঁর হাত থেকে। সেটাই যেন মন থেকে নামছেই না।

খেলা শেষে রিঙ্কু অকপটে বললেন, “শিশির বা আলোর জন্য কোনও সমস্যাই হয়নি। তবু ক্যাচটা ধরতে পারলাম না। খুব খারাপ লাগছে।” সাধারণত রিঙ্কুর হাত থেকে ক্যাচ পড়ে না বললেই চলে। ভারতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফিল্ডার হিসেবে তাঁর পরিচিতি। তাই নিজের কাছেই এই ভুলটা মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

এই ম্যাচটা রিঙ্কুর কাছে ছিল ‘কামব্যাকের’ মঞ্চ। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ়ে সুযোগ না পেলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নিউ জিল্যান্ড সিরিজ়ে নামার সুযোগ পেয়ে যে কতটা প্রস্তুত ছিলেন, তা নাগপুরেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। ইনিংসের শেষ ওভারে একাই তুলেছেন ২১ রান। তাঁর ব্যাটেই ভারতের স্কোর বিশাল হয়ে ওঠে।

রিঙ্কু জানালেন, নিয়মিত সুযোগ না পেলেও নিজেকে তৈরি রেখেছিলেন। “জানতাম, সুযোগ এলে কাজে লাগাতে হবে। শুরুতে দৌড়ে রান নিলাম, পরে হাত খুলে খেলেছি,” বললেন তিনি।

এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে কোচ গৌতম গম্ভীরের। ম্যাচের পর রিঙ্কু বললেন, “গৌতি ভাই আমাদের সব সময় চালিয়ে খেলতে বলেন। আমি সেটাই করার চেষ্টা করেছি। বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে এই ভাবেই খেলব।”

শেষ দিকে অর্শদীপ সিংহের সঙ্গে ব্যাট করতে গিয়ে কী পরিকল্পনা ছিল? রিঙ্কু জানালেন, “ওকে বলছিলাম সিঙ্গল নিয়ে আমাকে স্ট্রাইক দিতে। সব সময় সম্ভব হয়নি, তবে ঠিক করেছিলাম শেষ ওভারটা আমিই খেলব। এই দলে আমার ভূমিকা সেটাই— পাঁচ, ছয় বা সাত নম্বরে নেমে ম্যাচ শেষ করা।”

ব্যাটে ঝলক দেখিয়ে, চাপের মধ্যে দায়িত্ব সামলে রিঙ্কু বুঝিয়ে দিয়েছেন— বিশ্বকাপের দলে তিনি কেন এত জরুরি। গম্ভীরের ভরসার দামও দিয়েছেন নাগপুরে। হয়তো এক ফেলা ক্যাচ তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে, কিন্তু এই ম্যাচেই নিজের জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলেছেন বাঁহাতি এই ফিনিশার।

রিঙ্কুর গল্পটা আসলে এটুকুই— সাফল্যের মাঝেও নিজেকে খুঁটিয়ে বিচার করার মানসিকতা। আর সেটাই হয়তো তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *