বৈভবের পাশে অধিনায়ক থেকে বোর্ড, তবু শাস্তির মুখে ১৫ বছরের তারকা! শ্রীলঙ্কা ম্যাচের উত্তেজনা ঘিরে বিতর্ক

বৈভবের পাশে অধিনায়ক থেকে বোর্ড! ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারত ‘এ’ এবং শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে এখন ক্রিকেটমহলে তুমুল আলোচনা। ভারতের তরুণ ওপেনার বৈভব…

June 17, 2026
1 min read

বৈভবের পাশে অধিনায়ক থেকে বোর্ড!

ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারত ‘এ’ এবং শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে এখন ক্রিকেটমহলে তুমুল আলোচনা। ভারতের তরুণ ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী প্রতিপক্ষের এক ক্রিকেটারকে ধাক্কা মারার কারণে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই ঘটনার পরেও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক তিলক বর্মা, কোচ সাইরাজ বাহুতুলে এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা।

ম্যাচের শেষ মুহূর্ত ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। সুপার ওভারের শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আট রান। শ্রীলঙ্কার বোলার কুগাতাস মথুলান নিখুঁত ইয়র্কার করে বৈভবকে রান নিতে দেননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের উল্লাস শুরু হয়। ঠিক তার পরেই মেজাজ হারিয়ে বৈভব প্রতিপক্ষের এক ক্রিকেটারের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁকে ধাক্কা দেন।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সতীর্থ সূর্যাংশ শেড়গে এবং শ্রীলঙ্কার নিরোশন ডিকওয়েলা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বৈভবকে সরিয়ে নিয়ে যান। পরে দুই দলের ক্রিকেটারেরা নিয়মমাফিক হাত মেলালেও বৈভবকে তখনও স্পষ্টতই উত্তেজিত দেখাচ্ছিল।

ঘটনার জেরে বৈভবের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ক্রিকেট মহলের ধারণা, তাঁর ম্যাচ ফির একটি অংশ কেটে নেওয়া হতে পারে এবং আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তাও দেওয়া হতে পারে। অতীতে একই ধরনের ঘটনায় বিরাট কোহলিকেও আর্থিক জরিমানা গুনতে হয়েছিল।

তবে ভারতীয় শিবিরের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। অধিনায়ক তিলক বর্মার দাবি, গোটা ম্যাচ জুড়েই ভারতীয় ক্রিকেটারদের উদ্দেশে ক্রমাগত উসকানিমূলক মন্তব্য করছিলেন শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়েরা।

তিলক বলেন, “আমরা ম্যাচ জুড়ে অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু খেলা শেষ হওয়ার পরও বৈভবকে অকারণে গালাগাল করা হয়েছে। ওদের আচরণ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে বৈভবের প্রতিক্রিয়াকে আমি সম্পূর্ণ ভুল বলতে পারছি না।”

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়াও তরুণ ক্রিকেটারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বোর্ড চাইছে না এই ঘটনা বৈভবের ক্রিকেটীয় বিকাশে কোনও প্রভাব ফেলুক। তাঁর কথায়, “আমরা চাই ক্রিকেটাররা মাঠের খেলায় মন দিক। একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে ওর মনোযোগ নষ্ট হোক, সেটা আমরা চাই না।”

ভারত ‘এ’ দলের কোচ সাইরাজ বাহুতুলেও বৈভবকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, “বৈভব অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার ক্রিকেটার। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে ও এমন পরিস্থিতি আরও ভাল ভাবে সামলাতে শিখবে। তবে এটাও সত্যি যে, ওকে দীর্ঘ সময় ধরে উসকানি দেওয়া হয়েছিল।”

ম্যাচ জুড়ে উত্তেজনার আরও কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিনায়ক তিলক বর্মাকে আম্পায়ারদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়। আলো পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও খেলা পরিচালনা এবং একটি নো-বল সিদ্ধান্ত নিয়েও ভারতীয় শিবির অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এমনকি বৈভবকেও এক পর্যায়ে চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

সব মিলিয়ে ম্যাচের চাপ, আম্পায়ারিং নিয়ে অসন্তোষ এবং প্রতিপক্ষের আচরণ— এই সব কিছুর প্রভাবেই শেষ পর্যন্ত নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি মাত্র ১৫ বছর বয়সি বৈভব সূর্যবংশী। এখন দেখার, ম্যাচ রেফারি তাঁর বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত নেন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *