বেসরকারি কর্মীদের পেনশন কি বাড়ছে?
বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক পেনশন বাড়ানোর দাবি বহু দিনের। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম (ইপিএস)-এর আওতায় ন্যূনতম পেনশন ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭,৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছে। এ বার সেই বিষয়েই সংসদে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় শ্রম প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে।
লোকসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, শ্রমিক সংগঠনগুলির এই দাবি সরকারের কাছে পৌঁছেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ন্যূনতম মাসিক পেনশন বাড়ানোর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৯৯৫ সালের এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম অনুযায়ী বর্তমানে যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা ন্যূনতম ১,০০০ টাকা মাসিক পেনশন পান। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ রয়েছে। তবে পেনশনের অঙ্ক বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।
যদিও ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। করন্দলাজের কথায়, বেসরকারি কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষাকে সরকার গুরুত্ব দেয় এবং তাঁদের অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কবে বা কতটা পেনশন বাড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ইঙ্গিত দেননি।
বর্তমানে বেসরকারি কর্মীদের অবসরকালীন সুরক্ষার জন্য এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড (ইপিএফ) এবং এমপ্লয়িজ় পেনশন স্কিম (ইপিএস) চালু রয়েছে। এই দুই প্রকল্পই পরিচালনা করে এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন (ইপিএফও), যা কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের অধীন।
নিয়ম অনুযায়ী, কর্মীর মূল বেতনের (বেসিক পে) ১২ শতাংশ কেটে ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়। একই পরিমাণ অর্থ নিয়োগকারী সংস্থাকেও জমা দিতে হয়। সংস্থার এই অবদানের মধ্যে ৮.৩৩ শতাংশ যায় ইপিএস বা পেনশন তহবিলে এবং বাকি ৩.৬৭ শতাংশ জমা হয় প্রভিডেন্ট ফান্ডে।
এ ছাড়াও কেন্দ্র সরকার কর্মীর মূল বেতনের ১.১৬ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ পেনশন তহবিলে জমা দেয়। এর ফলে অবসরের পর কর্মীরা পেনশনের সুবিধা পান। অন্য দিকে, প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা টাকার উপর সরকার বর্তমানে বার্ষিক ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদও দিচ্ছে।
তবে ইপিএসে ইচ্ছামতো অতিরিক্ত অর্থ জমা করার সুযোগ নেই। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মী তাঁর পেনশন অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ মাসিক ১,২৫০ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর দাবি এখনও সরকারের বিবেচনায় থাকলেও এ মুহূর্তে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে লক্ষ লক্ষ বেসরকারি কর্মীকে এখন অপেক্ষা করতেই হবে কেন্দ্রের পরবর্তী ঘোষণার জন্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?