সূর্যকুমারের অধিনায়কত্ব কি টলমল?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর সাধারণত অধিনায়কের আসন আরও শক্ত হয়। কিন্তু সূর্যকুমার যাদব-এর ক্ষেত্রে ছবিটা যেন উল্টো। চলতি বছর ভারতকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করলেও তাঁর অধিনায়কত্ব এখনই প্রশ্নের মুখে।
মূল সমস্যা একটাই— ব্যাটিং ফর্ম।
বিশ্বকাপ জয়ের পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি সূর্যের ব্যাটে। আর আইপিএলেও সেই চিত্রই বজায় রয়েছে— একটি অর্ধশতরান ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোয় ব্যর্থতা। আধুনিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা আরও একবার সামনে এসেছে।
সূত্রের খবর, সামনে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়— এই দু’টি সিরিজ়ই হতে পারে সূর্যের জন্য “অগ্নিপরীক্ষা”। এই সময়েও যদি রান না আসে, তবে নেতৃত্ব তো দূরের কথা, দলে জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।
ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর এখনও সূর্যের পাশে আছেন বলেই জানা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় তাঁকে রাখার ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে নির্বাচক কমিটির উপর, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অজিত আগরকর।
আরও একটি বড় বিষয় বয়স। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্স ২০২৮— এই দু’টি বড় লক্ষ্য সামনে রেখেই এগোতে চান সূর্য। কিন্তু তখন তাঁর বয়স হবে ৩৮। ফলে ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে বোর্ডকে।
বোর্ডের একটি সূত্র স্পষ্ট জানিয়েছে— “অধিনায়ক হিসেবে সফল হলেও, ব্যাটার হিসেবেও ধারাবাহিক পারফর্ম করতে হবে। রান না এলে সমালোচনা হবেই, আর তাতেই জায়গা নড়বড়ে হতে পারে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সাল সূর্যের জন্য খুবই খারাপ কেটেছিল। গোটা বছরে একটি অর্ধশতরানও পাননি তিনি। তবুও বিশ্বকাপে তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট— এবং তিনি দলকে শিরোপা এনে দেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অতীতের সাফল্য বেশিদিন ভরসা জোগায় না।
সব মিলিয়ে, সূর্যকুমার যাদব এখন এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে— বিশ্বজয়ী অধিনায়ক হয়েও তাঁকে লড়তে হচ্ছে নিজের জায়গা ধরে রাখার জন্য। সামনে কয়েকটি সিরিজ়ই ঠিক করে দেবে, তাঁর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?