বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের উত্তাপ গ্যালারি ছাড়িয়ে রাস্তায়! আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের আনন্দ মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তবে সেই উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দেখা গেল অশান্তির ছবিও। ম্যাচ শেষ হতেই স্টেডিয়ামের ভিতর এবং বাইরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। বেশ কয়েক জনকে আটক ও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ম্যাচ চলাকালীন থেকেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। গ্যালারিতে বারবার বাকবিতণ্ডা ও পাল্টা স্লোগান শোনা যায়। শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে ফাইনালে পৌঁছতেই তাদের সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। সেই সময় ইংল্যান্ডের কিছু সমর্থকের সঙ্গে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
স্টেডিয়ামের বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ প্রথমে দুই পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই দলেরই কয়েক জন সমর্থক। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুধু ম্যাচের ভেন্যুতেই নয়, আমেরিকার একাধিক শহরেও একই ধরনের অশান্তির খবর মিলেছে। নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি-সহ বিভিন্ন এলাকায় দুই দেশের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামেও সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
ম্যাচ শুরুর আগেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছিল। অভিযোগ, ইংল্যান্ডের জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক চিৎকার করে বাধা দেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামকেও বিদ্রুপ করা হয় বলে দাবি। মাঠের খেলায় দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যেও একাধিকবার উত্তপ্ত মুহূর্ত তৈরি হয়, যার প্রভাব গ্যালারিতেও পড়ে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল লড়াই বরাবরই আবেগ ও ইতিহাসে মোড়া। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ এবং দুই দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করেছে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ছাপ এ বারও দেখা যায়। ম্যাচ চলাকালীন এবং জয়ের পর ফকল্যান্ড ইস্যু ঘিরে বিভিন্ন ব্যানার ও স্লোগান নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এমন অশান্তির ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফাইনালের আগে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যাতে মাঠের লড়াই শুধুই ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকে এবং সমর্থকদের আবেগ আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার কারণ না হয়, সেদিকেই এখন নজর আয়োজকদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?