বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জার্মানির নতুন কোচ ক্লপ!!
বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর নতুন কোচ বেছে নিল জার্মানি। অবশেষে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল স্বদেশি কোচ জুর্গেন ক্লপের হাতে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে জার্মান ফুটবল সংস্থা। লিভারপুল ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে সাফল্যের পর এবার দেশের দায়িত্ব নিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করলেন তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পরই পদত্যাগ করেছিলেন আগের কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। সেই থেকেই ক্লপকে ঘিরে জল্পনা চলছিল। অবশেষে শুক্রবার সেই জল্পনায় শিলমোহর পড়ে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই ক্লপ জানিয়ে দেন, তাঁর লক্ষ্য একটাই— ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ জিতে জার্মানিকে আবার বিশ্বের সেরার আসনে ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, “জার্মানির জাতীয় দলের কোচ হওয়া আমার কাছে বিরাট সম্মানের। বাইরে থেকে এই দায়িত্বের গুরুত্ব যতটা বোঝা যায়, বাস্তবে তার চাপ ও দায়িত্ব আরও অনেক বেশি।”
২০২৪ সালে লিভারপুল ছাড়ার পর আর কোনও ক্লাব বা জাতীয় দলের দায়িত্ব নেননি ক্লপ। গত দু’বছর মূলত ফুটবলের প্রচার ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কথায়, জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর থেকেই নতুন করে কাজ করার অনুপ্রেরণা ফিরে পেয়েছেন।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট একটি শর্তও জানিয়ে দিয়েছেন জার্মান কোচ। ক্লপ বলেন, সমর্থক বা সংবাদমাধ্যম যদি তাঁর পরিবারের উপর ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করে, তা হলে এক মুহূর্তও দায়িত্বে থাকবেন না।
তাঁর ভাষায়, “যে দিন মনে হবে আমি আর এই কাজের জন্য উপযুক্ত নই, সেদিনই চলে যাব। কোনও ক্ষতিপূরণ চাই না। কিন্তু আমার পরিবারকে যদি অযথা টার্গেট করা হয় বা তাদের শান্তিতে থাকতে না দেওয়া হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগ করব।”
ফুটবলবিশ্বের একাংশের মতে, ক্লপের আগমনে জার্মান ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। আক্রমণাত্মক ‘গেগেনপ্রেসিং’ কৌশলকে জনপ্রিয় করে তোলা এই কোচের অধীনে দল আবার আগের ধার ফিরে পাবে বলেই আশা সমর্থকদের।
জার্মানির কোচ হিসেবে ক্লপের প্রথম বড় পরীক্ষা খুব বেশি দূরে নয়। আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে উয়েফা নেশনস লিগে নেদারল্যান্ডস, গ্রিস ও সার্বিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে জার্মানি। সেই ম্যাচগুলিতেই নতুন কোচের পরিকল্পনার প্রথম ঝলক দেখতে মুখিয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীরা।
এদিকে জার্মান ফুটবল সংস্থাও নতুন প্রশাসনিক দায়িত্বে এনেছে প্রাক্তন গোলরক্ষক পার মার্টেস্যাকারকে। তিনি ফুটবল পরিচালক হিসেবে সিনিয়র দলের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভাদের গড়ে তোলা এবং জাতীয় দলে তুলে আনার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?