বিয়ের অ্যালবামের সঙ্গে নতুন ট্রেন্ড!
সময় বদলেছে, বদলেছে বিয়ের আয়োজনও। এক সময় বিয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে ভরসা ছিল শুধু অ্যালবাম আর ভিডিয়োর উপর। এখন সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ‘ওয়েডিং পেন্টিং’। ছাঁদনাতলায় বর-কনের বিশেষ মুহূর্তকে রং-তুলি আর ক্যানভাসে বন্দি করে রাখার এই নতুন ভাবনা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কলকাতাতেও।
বিয়ের মণ্ডপে এক কোণে বসে শিল্পী, সামনে ক্যানভাস। চারপাশে চলছে সানাই, মন্ত্রোচ্চারণ, আত্মীয়দের ব্যস্ততা। আর সেই সব মুহূর্তই ধরা পড়ছে তুলির আঁচড়ে। প্রযুক্তির যুগেও হাতে আঁকা ছবির এই আবেগই টানছে নতুন প্রজন্মকে।
আসলে এই ধারণা একেবারে নতুন নয়। ক্যামেরার প্রচলনের আগে ধনী পরিবারগুলিতে বিয়ের মুহূর্ত আঁকার জন্য শিল্পীদের ডাকা হতো। পরে ফোটোগ্রাফি আর ভিডিয়োগ্রাফির দাপটে সেই চল হারিয়ে যায়। তবে আবারও ফিরে আসছে সেই পুরনো শিল্পরীতি, নতুন মোড়কে।
২০২৫ সাল থেকে এই কাজ শুরু করেছেন শিল্পী শুভশ্রী চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, প্রথমে এক বিদেশি দম্পতির বিয়েতে লাইভ পেন্টিং করার সুযোগ আসে। আগে লাইভ পেন্টিং করলেও বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু সেই কাজের পরে এত সাড়া পান যে, একের পর এক বুকিং আসতে শুরু করে।
একটি ওয়েডিং পেন্টিং তৈরি করতে সাধারণত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। শিল্পীরা আগে থেকেই বর-কনের সঙ্গে কথা বলে নেন— কোন মুহূর্তটি তাঁরা ক্যানভাসে ধরে রাখতে চান। কেউ চান মালাবদল, কেউ সিঁদুরদান, আবার কেউ পরিবারের সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ দৃশ্য। পোশাক, গয়না, মণ্ডপসজ্জা— সব কিছুর খুঁটিনাটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়।
বিয়ের দিন শিল্পীরা অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই পৌঁছে যান। প্রথমে মণ্ডপের কাঠামো, আলো, সাজসজ্জা এঁকে নেওয়া হয়। পরে বর-কনে এলে ছবিতে যোগ হয় আসল প্রাণ। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে যায় সেই ছবি। অনেক সময় মণ্ডপ ছাড়ার আগেই হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁদের বিয়ের আঁকা স্মৃতি।
শিল্পী রনি বিশ্বাসও গত বছর থেকে এই ধরনের কাজ করছেন। তাঁর কথায়, এখন শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালি বিয়েতেও প্রচুর ডাক পাচ্ছেন। সমাজমাধ্যমে এই ধরনের ভিডিয়ো দেখে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের মধ্যেই।
তবে এই শিল্পের সঙ্গে খরচও জড়িয়ে রয়েছে। ক্যানভাসের মাপ, ছবিতে কত জন থাকবেন বা কতটা বিস্তারিত কাজ হবে— তার উপর নির্ভর করে খরচ বাড়ে বা কমে। সাধারণ ভাবে ১৬x২০ ইঞ্চির একটি ওয়েডিং পেন্টিংয়ের জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
যাঁরা এই পরিষেবা নিচ্ছেন, তাঁদের মতে, অ্যালবাম বা ভিডিয়ো থাকবেই, কিন্তু হাতে আঁকা একটি ছবি আলাদা আবেগ তৈরি করে। হবু কনে সুরঙ্গনা বলেন, “বিয়ের মুহূর্তটা রং-তুলিতে ধরে রাখতে পারব ভেবেই খুব ভাল লাগছে। এটা শুধু ছবি নয়, একটা স্মৃতি।”
বিয়ের জগতে নতুন নতুন ট্রেন্ড তো আসছেই। মেহেন্দি, সঙ্গীতের মতোই ‘ওয়েডিং পেন্টিং’ও হয়তো ধীরে
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা