বিধ্বস্ত গাজ়ায় হাসপাতাল বন্ধ, শহরের ভিতরে প্রবেশ ইজ়রায়েলি সেনার

শহরের ভিতরে প্রবেশ ইজ়রায়েলি সেনার গাজ়া শহরের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। কয়েক দিন আগে ইজ়রায়েলের বোমাবর্ষণে শহরের আল-রান্তিসি শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হাসপাতালের ঠিক পাশেই একটি…

September 23, 2025
1 min read

শহরের ভিতরে প্রবেশ ইজ়রায়েলি সেনার

গাজ়া শহরের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। কয়েক দিন আগে ইজ়রায়েলের বোমাবর্ষণে শহরের আল-রান্তিসি শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই হাসপাতালের ঠিক পাশেই একটি চক্ষু হাসপাতাল রয়েছে, সেখানে ও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতির জেরে স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, শহরের এই দুটি হাসপাতাল সেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার কারণে হাসপাতালগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য অপরিহার্য সেবা বিপর্যস্ত। শিশু ও রোগীদের জন্য একধরনের ‘জরুরি অবস্থা’ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ইজ়রায়েলি সেনা এখন স্থলপথে গাজ়া শহরে প্রবেশ করছে। রাস্তায় নেমেছে তাদের ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া যান। ক্রমশ শহরের আরও ভিতরে পৌঁছে যাচ্ছে সেনা, যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে ছুটছে।

গত কয়েক দিনে গাজ়ায় ইজ়রায়েল হামাসের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযান চালাচ্ছে। হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি বা আলোচনার ক্ষেত্রে শর্ত না মানলে আলোচনা করব না বলে স্পষ্ট করেছে ইজ়রায়েল। তাদের দাবি, হামাসের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য। তাই তারা নতুন করে বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান শুরু করেছে।

গাজ়াবাসীরা জানান, শহরের উত্তরপ্রান্ত থেকে ইজ়রায়েলি সেনারা শহরের ভিতরে প্রবেশ করেছে। যেই এলাকায় হাসপাতাল দুটি অবস্থিত, সেখানে পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিপজ্জনক। শহরের একের পর এক পরিকাঠামো, বহুতল ভবন ধ্বংস হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নিজের জীবন ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য শহর ছেড়ে পালাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, “প্রতিদিন গাজ়া থেকে চলে যেতে হচ্ছে। আমাদের শেষ সম্বল নিয়েই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করতে হচ্ছে।” বহু পরিবার নিজের বাড়ি, সম্পদ ছেড়ে পালাচ্ছে। হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় আহত ও রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজ়া শহরের এই পরিস্থিতি মানবিক সংকটের দিকে ধাবিত করছে। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সেবা একাধিক জায়গায় ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোই দমন এবং মানবিক সাহায্য দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমশ শাসনের বাইরে চলে যাচ্ছে।

গাজ়াবাসীর জন্য এক ভয়াবহ বাস্তবতা হলো—নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেওয়া ছাড়া বাঁচার উপায় নেই। শহরের ভিতরে প্রবেশ করা ইজ়রায়েলি সেনা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল দুই একসাথে তাদের জীবনকে ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি মানবিকতার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *