বিদেশি মামলা প্রত্যাহার নয়!
অসমে অবৈধ বিদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সম্প্রতি এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে একটি সরকারি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে অমুসলিম বিদেশিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে অসম সরকার। কিন্তু এই দাবিকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
বৃহস্পতিবার, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হিমন্ত স্পষ্ট করে জানান—সরকার এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তাঁর কথায়, “সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন)-তে যা আছে, তার বাইরে আমরা কোনও নির্দেশিকা জারি করিনি। যদি কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আমি নিজেই তা আপনাদের জানাব। আপাতত এমন কিছু হয়নি।”
বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি পিটিআইয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অসম সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের সব জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। ২২ জুলাই জারি হওয়া এই নির্দেশিকায় বলা হয়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মায়ানমার থেকে আসা অমুসলিম বিদেশিদের ‘বিদেশি’ তকমা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এমনকি, নাগরিকত্বের আবেদন করতে তাদের উৎসাহিত করতে বলা হয়েছিল।
এই নির্দেশিকায় সই করেছিলেন অসম সরকারের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র) অজয় তেওয়ারি। এরপরই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শুরু হয় জোর বিতর্ক। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, ধর্মের ভিত্তিতে বিদেশিদের বাছাই করে ‘প্রশ্রয়’ দেওয়া হচ্ছে।
ফরেনার্স ট্রাইবুনালের ভূমিকা
আইন অনুযায়ী, অসমে ধৃত কোনও ব্যক্তিকে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করার একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে ফরেনার্স ট্রাইবুনালের। সেখান থেকে রায় এলে তবেই উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো যায়। অর্থাৎ, এই পুরো বিষয়টি আইন এবং বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ঠিক হয়, প্রশাসনিক আদেশে নয়।
পিটিআই আরও জানিয়েছে, ২০১৫ সালের আগে অসমে প্রবেশ করা অমুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের মামলা ট্রাইবুনালে পাঠানো না-হওয়ার নির্দেশ আগে থেকেই ছিল। ২০২4 সালের জুলাই মাসেই পুলিশের সীমান্ত শাখাকে সেই নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
সিএএ কী বলছে?
২০১৯ সালে মোদী সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদে পাশ হয় নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ।
এই আইনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে এসেছেন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ, পার্সি বা জৈন সম্প্রদায়ের অন্তর্গত, তারা ভারতে নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন।
তবে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে এই আইনকে ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে—ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগও সামনে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট
এই বিতর্কের মাঝেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিলেন।
তিনি জানালেন—সরকার কেবল সিএএ অনুসারে যা যা রয়েছে, তাই নিয়েই কাজ করছে। কোনও নতুন নির্দেশিকা বা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তাঁর কথায়, “সিএএ-তে যা আছে, তাতে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আসা ছয়টি অমুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তার বাইরে আমরা কিছু করছি না।”
এই বিবৃতি সরকারের তরফে বিতর্ক থামানোর একটা স্পষ্ট চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে বিষয়টি এখানেই থেমে যাবে কিনা, তা সময়ই বলবে।
মায়ের কঠোর আদেশ থেকে শুরু করে ছোট ছোট টাস্ক, কন্যা পলককে বড় করতে যা করেছেন শ্বেতা তিওয়ারি