বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে শ্রুতি নারায়ণন!
একটি ১৪ মিনিটের ভিডিয়ো ঘিরে সরগরম তামিল সিনেমা এবং টেলিভিশন জগৎ। বলা হচ্ছে, তামিল অভিনেত্রী শ্রুতি নারায়ণনের অডিশন ভিডিয়ো ফাঁস হয়েছে, যা কাস্টিং কাউচের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মাধ্যমে তৈরি ভুয়ো ভিডিয়ো।
কাস্টিং কাউচের অভিযোগ, এআই-এর দাপট
ভারতে কাস্টিং কাউচের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বলিউড থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সিনেমা জগৎ পর্যন্ত বহু তারকাই যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তামিল অভিনেত্রী শ্রুতি নারায়ণন। তবে এই ভিডিয়ো আদৌ তার বাস্তব অভিজ্ঞতা কিনা, নাকি কৃত্রিম মেধার কারসাজি, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।
ভিডিয়ো ফাঁস এবং বিতর্ক
সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে ১৪ মিনিটের একটি ভিডিয়ো, যেখানে শ্রুতির মতো দেখতে একজন মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। ভিডিয়োটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় তুমুল আলোচনা। অনেকের মতে, এটি কাস্টিং কাউচের শিকার হওয়ার প্রমাণ, আবার কেউ বলছেন, এটি প্রযুক্তির অপব্যবহারের উদাহরণ। যদিও আনন্দবাজার ডট কম এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি।
অভিনেত্রীর প্রতিক্রিয়া
বিতর্কের মধ্যে শ্রুতি নারায়ণন তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যক্তিগত করে ফেলেছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছেন, যেখানে দেখানো হয়েছে কিভাবে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি মানুষের ভুয়ো ছবি এবং ভিডিয়ো তৈরি করা যায়। তার এই পোস্ট দেখে অনেকে মনে করছেন, তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি আসলে এআই দ্বারা তৈরি।
কাস্টিং কাউচের অন্ধকার দিক
ভারতীয় বিনোদন জগতে কাস্টিং কাউচ নিয়ে বহুবার মুখ খুলেছেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। ‘মিটু’ আন্দোলনের সময় বহু নামী অভিনেত্রী তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। কিন্তু সেই একই বিতর্ক আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে শ্রুতির ভিডিয়োর মাধ্যমে।
এআই-এর চ্যালেঞ্জ
এখনকার সময়ে কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর মাধ্যমে সহজেই ভুয়ো ভিডিয়ো তৈরি করা যায়। এ ধরনের ‘ডিপফেক’ ভিডিয়ো তৈরি করে কারো ভাবমূর্তি নষ্ট করাও অসম্ভব নয়। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কড়া আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ এবং সতর্কতা
শ্রুতি নারায়ণনের ঘটনাটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তির অপব্যবহার কতটা ক্ষতিকর হতে পারে। একইসঙ্গে, কাস্টিং কাউচের মতো গুরুতর অভিযোগগুলিও সঠিকভাবে যাচাই করা জরুরি। বিনোদন জগতে নতুন মুখদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
তবে, এই বিতর্কের মধ্যে অভিনেত্রী শ্রুতি নারায়ণন কবে মুখ খুলবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সত্যিই কি তিনি কাস্টিং কাউচের শিকার, নাকি এআই-এর ফাঁদে পড়েছেন? উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
মোদীর আমন্ত্রণে সাড়া, ভারতে আসছেন পুতিন! দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়