বিক্ষোভে অচল বিকাশ ভবন!
বৃহস্পতিবার সকালে যে বিকাশ ভবনের দরজা-জানালা দিয়ে ব্যস্ত কর্মচারীদের যাতায়াত চলে নিরবিচারে, সেই ভবনটাই দুপুর গড়াতেই যেন এক অদৃশ্য কারাগারে পরিণত হয়। চাকরি হারানোদের বিক্ষোভে বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক কাজকর্ম। ভিতরে আটকে পড়েন শতাধিক সরকারি কর্মী। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে এক মহিলা কর্মী বাধ্য হয়ে পাঁচিল টপকে বেরিয়ে যান ভবন চত্বর থেকে।
জানা গেছে, ওই মহিলা শিক্ষাদফতরের কর্মী টুম্পা মুখোপাধ্যায়। তিনি সকাল থেকেই বিকাশ ভবনে কর্মরত ছিলেন। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়ে। ভিতরের কর্মীরা তখন ভবনের বাইরে বেরোনোর উপায় হারিয়ে ফেলেন। দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে বাড়ি ফেরার আর কোনও রাস্তা না দেখে টুম্পা পিছনের পাঁচিলে উঠে ঝাঁপ দিয়ে বেরিয়ে যান। পরে জানা যায়, তিনি সুস্থ রয়েছেন এবং নিরাপদে বাড়িও পৌঁছেছেন।
কী ঘটেছিল বৃহস্পতিবার?
চাকরি হারানো আন্দোলনরত প্রার্থীদের সংগঠন ‘যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর সদস্যরা দুপুর ১২টা থেকে বিকাশ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেন। দাবি, রাজ্য সরকারকে স্পষ্ট জানাতে হবে— নতুন করে কোনও পরীক্ষা নয়, পুরনো তালিকাভুক্তদেরই চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। সেই দাবিতেই শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং না আসা পর্যন্ত তাঁরা সরে দাঁড়াবেন না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ভিতরে আটকে পড়া কর্মীদেরও বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। যদিও বিক্ষোভকারীরা আশ্বাস দেন, ভিতরে থাকা মানুষদের জন্য জল ও খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।
চাকরিহারাদের সঙ্গে পুলিশের টানাপোড়েন
দুপুরের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আরও। অভিযোগ, এক সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ প্রধান গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন। পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে চাপে পড়ে যায়।
এই সময়েই তৃণমূল নেতা ও বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত বিকাশ ভবনে প্রবেশ করতে গেলে উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছয়। তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। এমনকি গাড়ির সামনে কয়েক জন শুয়েও পড়েন। সব্যসাচীর অভিযোগ, তাঁকে ধাক্কাও দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত কাজেই সেখানে গিয়েছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি স্পষ্ট
বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিক্ষোভকারীরা জানান, তাঁরা কোনও ভাবেই নতুন করে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত নন। তাঁদের একটাই দাবি— পুরনো নিয়োগের ভিত্তিতে ফেরানো হোক চাকরি। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে যদি এই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট আশ্বাস না মেলে, তবে তাঁদের অবস্থান চলবে অনির্দিষ্ট কালের জন্য।
শেষ কথা
সরকারি ভবনে আটকে পড়া কর্মী, পাঁচিল টপকে পালাতে বাধ্য হওয়া এক মহিলা, আর প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে উত্তপ্ত পরিবেশ— সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে যেন টান টান নাটকীয়তা। রাজ্য সরকারের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য না এলেও, বিক্ষোভকারীদের দাবি এবং ক্ষোভ যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
বিরাটের বিদায়ের পর অনুষ্কার আবেগ, ব্যথিত মাইকেল ভন ও ক্রিকেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা