বালি পাচার মামলায় কলকাতা ও ঝাড়গ্রামে ইডির একযোগে হানা

ইডির একযোগে হানা বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত মামলায় ফের নড়েচড়ে বসল ইডি। সোমবার ভোর থেকেই কলকাতা এবং ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ঠিকানায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ইডির এই পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে…

September 8, 2025
0 min read

ইডির একযোগে হানা

বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত মামলায় ফের নড়েচড়ে বসল ইডি। সোমবার ভোর থেকেই কলকাতা এবং ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন ঠিকানায় শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। ইডির এই পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুই জেলায়।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতেই রাজ্যের নানা প্রান্তে রওনা দেন তদন্তকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সোমবার ভোরেই প্রায় একই সময়ে একাধিক জায়গায় অভিযান শুরু হয়। জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, এমনকি কলকাতার বেহালা ও রিজেন্ট কলোনির ঠিকানাতেও তল্লাশি চলছে। যদিও কাদের বাড়িতে এই অভিযান, তা সরকারি ভাবে এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে শেখ জহিরুল শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়ি। ভোর থেকে সেখানেই চলছে জোরকদমে তল্লাশি। সুবর্ণরেখা নদীর পাড়ে দাঁড়ানো তিনতলা ওই বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাইরে সতর্ক পাহারা বসানো হয়েছে, যাতে কেউ অনধিকার প্রবেশ করতে না পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জহিরুল আগে ভিলেজ পুলিশ হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু পরে চাকরি ছেড়ে বালির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, তাঁর নিজস্ব বালি খাদানও রয়েছে। সেই সূত্রেই ইডির নজরে এসেছেন তিনি। সোমবার সকালে তাঁর বাড়ি এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। বাড়ির ভিতরে সম্ভাব্য নথি, অর্থনৈতিক লেনদেনের খতিয়ান এবং ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, ঝাড়গ্রাম জেলায় একসঙ্গে ছয়টি জায়গায় এই মুহূর্তে অভিযান চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল থেকেই দেখছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং চারপাশে বাড়তে থাকা চাপা উদ্বেগ।

অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় কৌতূহল বেড়েছে। অনেকে বলছেন, এতদিন ধরে চলা বালি পাচারের পিছনে কারা কারা যুক্ত, সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো এবার মিলবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই অভিযান নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, ইডির এই পদক্ষেপ আগামী দিনে আরও বড় প্রকাশের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তদন্তকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বালি পাচারের অভিযোগ উঠছিল। শুধু আর্থিক নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পরিবেশগত ক্ষতির প্রশ্নও। নদীর পাড় ভাঙন, কৃষিজমি নষ্ট হওয়া কিংবা জলপথের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যার মূলেও এই বেআইনি ব্যবসা। তাই গোটা বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে চান ইডি আধিকারিকরা।

বর্তমানে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুলের বাড়ির ভিতরে একটানা চলছে খোঁজাখুঁজি। প্রতি মুহূর্তে নতুন তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও অনেকেই আশা করছেন, এই অভিযান বালি পাচার চক্রের আসল রূপটিকে সামনে আনবে।

সব মিলিয়ে, সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান রাজ্যে বালি ব্যবসার আড়ালে চলা বেআইনি কর্মকাণ্ডের নতুন অধ্যায় উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার, ইডি কতদূর পৌঁছায় এবং কাদের কাদের বিরুদ্ধে আরও নাম উঠে আসে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *