বারাণসীতে ভয়াবহ গণধর্ষণ, কেন্দ্রেই পৌঁছে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বারাণসীতে ভয়াবহ গণধর্ষণ! নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই চরম প্রতিক্রিয়া দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শহরে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘কঠোরতম শাস্তি’ নিশ্চিত করার নির্দেশ…

April 12, 2025
1 min read

বারাণসীতে ভয়াবহ গণধর্ষণ!

নিজের সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই চরম প্রতিক্রিয়া দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শহরে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘কঠোরতম শাস্তি’ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে ২৩ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৯ জন। তাঁদের পাঠানো হয়েছে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।

গত কয়েক দিন ধরে বারাণসী শহরে ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ। ৪ এপ্রিল, এক তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ৩ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, এক বন্ধু তাঁকে পিশাচ মোচন এলাকার একটি হুক্কা বারে নিয়ে যান। সেখানেই আরও কয়েক জন মিলে তাঁকে পানীয়র সঙ্গে মাদক খাইয়ে বেহুঁশ করে দেন। এরপর তাঁকে সিগরা এলাকার একাধিক হস্টেলে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চলে ভয়ঙ্কর অত্যাচার—৭ দিন ধরে ২৩ জন মিলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।

এই বিভীষিকাময় ঘটনায় শহরের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তার মধ্যেই শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদী ১৫তম বার বারাণসী সফরে আসেন। শহরে পা রেখেই তিনি জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার ও বারাণসীর জেলাশাসক-সহ রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয় পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। অভিযোগের ভয়াবহতা শুনেই তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং নির্দেশ দেন—এই ঘটনায় জড়িতদের যেন কোনও রকম রেহাই না দেওয়া হয়। শুধু শাস্তিই নয়, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বারাণসী পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করেছে মূল অভিযুক্তদের মধ্যে ৯ জনকে। বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শহরে মহিলাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য সিসিটিভি নজরদারি, হোস্টেল ও পাবলিক স্পেসে নিয়মিত নজরদারি চালানোর মতো পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তরুণীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থাও অত্যন্ত সঙ্কটজনক। তাঁর চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। ঘটনায় জনমনে প্রবল ক্ষোভের পাশাপাশি ভরসাও ফিরেছে, কারণ স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন।

একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে উঠেছেন মোদী। তবে এই ঘটনার পর শুধু ভোট নয়, বারাণসীর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও এক নতুন বার্তা দিলেন তিনি—অপরাধ যেই করুক, শাস্তি হবেই।

চিন বাদে সব দেশের উপর শুল্কনীতি স্থগিত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে ফিরল স্বস্তি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *