বাতাসেই ছড়াচ্ছে বার্ড ফ্লু! ভাইরাস শনাক্তে অভিনব যন্ত্র আবিষ্কার

বাতাসেই ছড়াচ্ছে বার্ড ফ্লু! বিশ্বজুড়ে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস কি নতুন মহামারির রূপ নেবে? যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো এটি মানুষের জন্য অতটা…

March 10, 2025
1 min read

বাতাসেই ছড়াচ্ছে বার্ড ফ্লু!

বিশ্বজুড়ে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস কি নতুন মহামারির রূপ নেবে? যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনো এটি মানুষের জন্য অতটা ভয়ংকর হয়ে ওঠেনি। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কম নয়। আর সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবার এক অভিনব প্রযুক্তির সন্ধান দিলেন বিজ্ঞানীরা।

আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির গবেষকরা এমন এক সেন্সর ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা বাতাস বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারবে, সেখানে ভাইরাস রয়েছে কি না। এই আবিষ্কার বার্ড ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভাইরাস ছড়াচ্ছে কেবল প্রাণী থেকে নয়, বাতাসেও!

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বার্ড ফ্লুর প্রকোপ বাড়ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের পর ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে পোলট্রি ফার্মে ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। শুধু হাঁস-মুরগিই নয়, বিড়ালের শরীরেও এই ভাইরাস পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কেবল আক্রান্ত পাখি বা প্রাণীর সংস্পর্শ থেকে নয়, বরং বাতাসের মাধ্যমেও!

এ কারণেই ভাইরাস পর্যবেক্ষণের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভাবতে হয়েছে গবেষকদের। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এক বিশেষ ধরনের ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল ক্যাপাসিটিভ বায়োসেন্সর ব্যবহার করে বাতাসে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব।

কীভাবে কাজ করবে এই যন্ত্র?

এই নতুন ডিভাইসটিতে রয়েছে ন্যানোক্রিস্টাল ও গ্রাফিন অক্সাইডের সূক্ষ্ম স্তর, যা একটি নেটওয়ার্কের মতো কাজ করবে। এই স্তরটি কার্বন ইলেক্ট্রোডের ওপর বসানো হয়েছে, যা সেন্সরের ভূমিকায় থাকবে।

যন্ত্রটি যখন বাতাস গ্রহণ করবে, তখন সেটি বাতাসের জলকণা, ধূলিকণা ও অন্যান্য উপাদান বিশ্লেষণ করবে। জলকণায় বার্ড ফ্লু ভাইরাসের উপস্থিতি থাকলে, সেন্সর সেটি চিহ্নিত করতে পারবে। ফলে নির্দিষ্ট এলাকায় ভাইরাসের মাত্রা কতটা, সেটিও জানা যাবে।

ভাইরাসের রূপ বদল নিয়ে উদ্বেগ

এখন পর্যন্ত বার্ড ফ্লুর প্রধানত দুটি প্রজাতি চিহ্নিত হয়েছে— এইচ৫এন১ ও এইচ৭এন৯। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভাইরাসের জিনের গঠন (জেনেটিক মিউটেশন) খুব দ্রুত বদলাচ্ছে, ফলে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন, এইচ৫এন১ ভাইরাস এখন বাতাসে ভেসে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আগে এটি সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে ছড়াত, কিন্তু এখন এটি ধূলিকণা বা জলকণার মাধ্যমে পরিবাহিত হচ্ছে।

ভাইরাস ঠেকাতে কী পরিকল্পনা?

এই নতুন আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের ভাইরাস প্রতিরোধ পরিকল্পনায় সহায়তা করবে। যেহেতু ভাইরাসটি বাতাসেও ছড়াচ্ছে, তাই তার গতিবিধির উপর নজর রাখা খুবই জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। ফলে আগেভাগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *