বাঘিনির হানায় আতঙ্ক: পুরুলিয়ার রাহামদা গ্রামে একাধিক ছাগল নিখোঁজ, আহত বেশ কয়েকটি

বাঘিনির হানায় আতঙ্ক পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ব্লকের রাহামদা গ্রামে ফের বাঘিনির হানায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এবং উদ্বেগ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে ছাড়া পোষা ছাগলের…

December 24, 2024
0 min read

বাঘিনির হানায় আতঙ্ক

পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ব্লকের রাহামদা গ্রামে ফের বাঘিনির হানায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এবং উদ্বেগ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে ছাড়া পোষা ছাগলের মধ্যে বেশ কয়েকটি নিখোঁজ এবং কয়েকটি রক্তাক্ত অবস্থায় ফিরে আসায় এই ভয় আরও ঘনীভূত হয়েছে।

ছাগল নিখোঁজ, আধখাওয়া অবস্থায় উদ্ধার

রাহামদা গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে একটি ছাগলের আধখাওয়া দেহ পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সভারাম মুর্মু জানান, ভাঁড়ারি জঙ্গল থেকে ছাগলটির দেহ উদ্ধার হয়। ওই ছাগলটি আগেই নিখোঁজ ছিল। এই দৃশ্য দেখে গ্রামবাসীরা বুঝতে পেরেছেন যে বাঘিনিরই হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে।

বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ছাগলগুলির ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ থাকা ছাগলগুলিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

রাইকা পাহাড় এবং ঝাড়া পাহাড়ে জ়িনতের অবস্থান

রাইকা পাহাড়ে বাঘিনি জ়িনতের উপস্থিতির কথা বন দফতর আগেই জানিয়েছিল। তবে ঝাড়া পাহাড়ের জঙ্গলে ছাগলের ওপর হামলার ঘটনা নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রাহামদা গ্রামের বাসিন্দারা জানতে চান, যদি জ়িনত রাইকা পাহাড়েই থাকে, তবে ঝাড়া পাহাড়ে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল?

বন দফতরের মতে, রাইকা এবং ঝাড়া পাহাড়ের দূরত্ব বাঘিনির জন্য তেমন কোনো বাধা নয়। খাবারের খোঁজে এই দূরত্ব বাঘিনি সহজেই অতিক্রম করতে পারে।

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ

মঙ্গলবার বিকেলে বন দফতরের একটি সতর্কতামূলক প্রচারের গাড়ি রাহামদা গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িটি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, বাঘিনির অবস্থান নিয়ে বন দফতর সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁদের দাবি, যদি বাঘিনি রাইকা পাহাড়েই থাকে, তবে ঝাড়া পাহাড়ের জঙ্গলে ছাগলের পাল কীভাবে আক্রান্ত হলো?

স্থানীয়দের আরও দাবি, বন দফতর বাঘিনিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাঁরা মনে করছেন, জ়িনতের কারণে আশপাশের গ্রামগুলিতে চাষবাস এবং জীবিকার উপায় আরও সংকটময় হয়ে উঠবে।

বন দফতরের নজরদারি

বন দফতর রাইকা পাহাড় এবং তার আশপাশের এলাকায় বাঘিনির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। রেডিও কলার ট্র্যাকিং অ্যান্টেনা, স্মার্ট ট্র্যাপ ক্যামেরা, ইনফ্রারেড ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে দিনভর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও, ঝাড়া পাহাড়ে ছাগলের পালের ওপর হামলার পর রাহামদা ও আশপাশের গ্রামগুলিতে বাড়তি বনকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা

ছাগল হারানোর পাশাপাশি আহত পশুগুলির চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেও সমস্যায় পড়ছেন গ্রামবাসীরা। এ অবস্থায় তাঁরা চান, বন দফতর দ্রুত জ়িনতকে নিয়ন্ত্রণে আনুক এবং গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।

রাহামদা ও আশপাশের গ্রামগুলির বাসিন্দারা বন দফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বাঘিনিকে ধরার পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে গ্রামগুলির অর্থনৈতিক ক্ষতি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে।

উপসংহার

বাঘিনির হানা পুরুলিয়ার গ্রামগুলিতে নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। বন দফতর ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেই এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। বাঘিনিকে নিরাপদে ধরার পাশাপাশি গ্রামবাসীদেরও নিরাপত্তা দিতে উদ্যোগ নিতে হবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *