বাগ্দত্ত কেতনকে সরানোর ছক?
মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিং করতে গিয়ে ব্যবসায়ী-পুত্র কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই মামলায় সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের অভিযোগ, এটি আদতে পরিকল্পিত খুন, আর সেই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন কেতনের বাগ্দত্তা সিয়া গয়াল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০ বছরের সিয়া পুণের বিবওয়েওয়াড়ীর বাসিন্দা এবং একটি সচ্ছল ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ে। অন্য দিকে, কেতন ছিলেন পুণের পরিচিত রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বাগ্দান হয় এবং আগামী নভেম্বরে বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল। দুই পরিবারের পক্ষ থেকে উদয়পুরে রাজকীয় আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, বাগ্দানের আগেই চেতনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সিয়া। বাগ্দানের পরেও সেই সম্পর্ক বজায় ছিল। কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছ’মাসে সিয়া ও চেতনের মধ্যে ২,০০৪টি ফোনালাপ হয়েছে। মোট কথা হয়েছে প্রায় ২৩৮ ঘণ্টা।
কেতনের পরিবার জানিয়েছে, বাগ্দানের পর থেকেই সিয়ার আচরণ নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন কেতন। মাঝে মাঝেই তিনি সিয়ার অতীত এবং তাঁর পরিচিতদের বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেন। এমনকি চেতনকে ঘিরেও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরিচিত পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি পরিবারের সদস্যেরা।
পুলিশের অনুমান, কেতনকে বিয়ে করতে চাননি সিয়া। বরং প্রেমিক চেতনের সঙ্গে মিলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, জুন মাসে বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে যাওয়ার কথা ছিল কেতন ও সিয়ার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেতনের পাসপোর্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, সেই পাসপোর্ট সিয়াই লুকিয়ে রেখেছিলেন, যাতে সফর বাতিল হয় এবং অন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
১৮ জুন কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে যান সিয়া। অভিযোগ, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন চেতন। যাতে কেউ চিনতে না পারে, সে জন্য গরমের মধ্যেও হুডি পরে ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গের একটি নির্জন জায়গায় কেতনকে প্রায় ৪০০-৪৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এটি প্রথম চেষ্টা ছিল না। এর আগেও একাধিক বার কেতনকে খুনের চেষ্টা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। একবার ট্রেকিংয়ের সময় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ঝোপ আঁকড়ে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। আরও দু’বার পরিকল্পনা করেও সফল হননি অভিযুক্তেরা।
বর্তমানে সিয়া গয়াল ও চেতন চৌধরী দু’জনেই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি প্রেমঘটিত অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে সাজানো এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?