বাগানের শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটার উপকার
আজকের ব্যস্ত ও আধুনিক জীবনে আমরা সাধারণত হাঁটার জন্য ভালো জুতো পরে বের হই। কারণ, ভাল জুতো পায়ে পায়ে হাঁটার সময় আরাম দেয়, পা ব্যথা কমায়। কিন্তু কি কখনো খেয়াল করেছেন, বাগানের শিশির ভেজা ঘাসে খালি পায়ে হাঁটার স্বাদ? বাগান কিংবা পার্কের সেই নরম, শিশির-আঁচড়ানো ঘাসের ওপর পা রেখে হাঁটার অভিজ্ঞতা একেবারে আলাদা। আর কী জানেন? এই খালি পায়ে হাঁটার রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকার। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ আজকের দিনে এ অভিজ্ঞতাটা অনেকটাই ভুলে গেছে।
বাগানে খালি পায়ে হাঁটার বৈজ্ঞানিক নাম ‘গ্রাউন্ডিং’ বা ‘আর্থিং’। এটি সাধারণ হাঁটার থেকে অনেক বেশি উপকারী। মাটির সরাসরি সংস্পর্শে পায়ের তালুর স্নায়ুরা এমন এক ধরনের সক্রিয়তা পায় যা শরীর ও মনকে অনেকটা স্বস্তি দেয়।
প্রথমত, পায়ের তলার অনেক স্নায়ুর শেষপ্রান্ত থাকে, যা শরীরের নানা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। খালি পায়ে শিশির ভেজা ঘাসের স্পর্শ স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, ফলে মানসিক চাপ অনেকাংশে কমে। মন শান্ত হয়, মাথার ঝামেলা দূর হয়।
দ্বিতীয়ত, আধুনিক জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময়সূচি ও দৈনন্দিন রুটিন অনেকাংশে ব্যাহত হয়। এই অশান্ত জীবনযাত্রায় ঘাসের ওপর নিয়মিত হাঁটা কর্টিসল নামক ‘স্ট্রেস হরমোন’ এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে মানসিক চাপ কমে, ঘুমের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। শরীরের ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী মেলাটোনিন হরমোনের সঠিক কার্যক্রম বজায় থাকে।
তৃতীয়ত, মাটির উঁচু-নিচু ও ঘাসের অমসৃণ পৃষ্ঠে খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের তালুতে নানা ধরনের চাপ পড়ে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। যা শরীরকে সতেজ ও চঞ্চল রাখে।
চতুর্থত, জুতো ছাড়া সরাসরি পৃথিবীর মাটির সঙ্গে পায়ের সংস্পর্শে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়া শরীরে প্রদাহ কমায়, ব্যথা ও জ্বালা হ্রাস করে। পাশাপাশি এটি শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকালগুলোর কাজ বন্ধ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমাতে পারে।
পঞ্চমত, জুতো পরে হাঁটার তুলনায় খালি পায়ে হাঁটলে শরীরের অধিক সংখ্যক পেশি সক্রিয় হয় এবং শক্তিশালী হয়। এটি দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়। ফলে শরীরের ভঙ্গিমা ও গতি-প্রকৃতি আরও উন্নত হয়।
আজকের যান্ত্রিক জীবনে যদি প্রতিদিন একটু সময় বের করে বাগানের শিশির ভেজা ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করি, তা হলে কেবল শরীরই নয়, মনও অনেকটাই প্রশান্ত থাকবে। কাজের উদ্যম বাড়বে, মেজাজ ভালো থাকবে এবং সারাদিন কর্মক্ষমতা বাড়বে। তাই আজই চেষ্টা করুন, খোলা আকাশের নিচে শিশির ভেজা ঘাসের ওপর পা রেখে হাঁটার সেই সহজ অথচ দারুণ উপকারিতা আপনার জীবনে নিয়ে আসুন।
বাড়ির খাবারেও বাড়তে পারে কোলেস্টেরল: প্রাতরাশে এই ৫ খাবার খাবেন না কেন?