বিহারের পাট চাষে ফিরছে সোনালি দিনের আশা
যেখানে গোটা বিশ্ব প্লাস্টিক বর্জন ও টেকসই বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে পাট এক শক্তিশালী সমাধান হয়ে উঠেছে। ভারতের ঐতিহ্যবাহী এই সোনালি আঁশ নিয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে বিহারের কৃষিশিল্প। বিশেষ করে ঔরঙ্গাবাদ, অরওয়াল ও বেগুসরাই জেলার মাঠগুলোয় আবারও দেখা যাচ্ছে পাটের সবুজ ছোঁয়া।
বহু বছর ধরে পাট চাষ ভারতের পূর্বাঞ্চলে প্রচলিত। তবে আধুনিক কৃষি অবকাঠামো ও যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে বিহারের অনেক অঞ্চলে পাট চাষ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। ঠিক সেই সময় উদ্যোগ নেয় ‘ন্যাশনাল জুট বোর্ড’ (NJB)। তাদের বিশেষ প্রকল্প ‘জুট আইকেয়ার’-এর মাধ্যমে পাট চাষে ফিরেছে নতুন দিশা ও আশার আলো।
এখন শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা অসম নয়, বিহারেরও তিনটি জেলা—ঔরঙ্গাবাদ, অরওয়াল ও বেগুসরাই—পাট চাষের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। ‘জুট আইকেয়ার’ প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে ‘ভারতীয় পাট কর্পোরেশন’ (JCI) এবং ‘মেসার্স খলিহান’ নামে একটি সংস্থা।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা দিয়ে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করা। কৃষকদের জন্য রাখা হয়েছে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা—
- উচ্চ ফলনশীল (HYV) প্রত্যয়িত বীজ ৫০ শতাংশ ভর্তুকিতে সরবরাহ।
- পাট পচনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক (retting accelerator) একেবারে বিনামূল্যে বিতরণ।
- গ্রামে গ্রামে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা শিবিরের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শেখানো।
এখন পর্যন্ত ফলাফলও বেশ ইতিবাচক। তিনটি জেলায় মোট ১৬২৪ জন কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন। প্রায় ৪০৭ হেক্টর জমিতে নতুন করে পাট চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকদের মধ্যে ১৩ কুইন্টাল উন্নত মানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
এর ফলে শুধু জমির কার্যকর ব্যবহারই হচ্ছে না, বরং অনেক পতিত জমিও আবার চাষযোগ্য হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা পাচ্ছেন অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ। কারণ পাট কেবল দড়ি বা বস্তার উপকরণ নয়—এখন এটি পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাট চাষে এই পুনর্জাগরণের ফলে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার যেমন উন্নতি হচ্ছে, তেমনই রাজ্যের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসছে। কৃষি দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দিনে বিহার আরও বড় পরিসরে পাট চাষের মাধ্যমে দেশের অন্যতম পাট উৎপাদক রাজ্যে পরিণত হবে।
আসলে পাট শুধু একটি ফসল নয়, বরং টেকসই ভবিষ্যতের পথে বিহারের নতুন সম্ভাবনা। যারা এত দিন উপেক্ষিত হয়ে পড়েছিলেন, সেই সব কৃষক এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন—সবুজ পাটের পাতায় আর সোনালি আঁশে।