বর্ষায় বাড়ছে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ, শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে কোন নিয়মগুলি মানতেই হবে?

বর্ষায় বাড়ছে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ! বর্ষাকাল এলেই ডায়রিয়া, বমি ও পেটের সংক্রমণের মতো সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময় শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় রোটা ভাইরাস। সম্প্রতি মুম্বইয়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণ…

July 29, 2026
1 min read

বর্ষায় বাড়ছে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ!

বর্ষাকাল এলেই ডায়রিয়া, বমি ও পেটের সংক্রমণের মতো সমস্যা বেড়ে যায়। এ সময় শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় রোটা ভাইরাস। সম্প্রতি মুম্বইয়ে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিহার পারেক। তাঁর মতে, গত কয়েক সপ্তাহে স্টমাক ফ্লু-জাতীয় সংক্রমণের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যার মূল কারণ রোটা ভাইরাস। এর ফলে শিশুদের মধ্যে বারবার পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর, পেটব্যথা এবং দ্রুত ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রোটা ভাইরাস মূলত মল-মুখ (fecal-oral) পথে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর মলের সংস্পর্শে থাকা হাত, খেলনা, খাবার বা অন্য কোনও বস্তু থেকে ভাইরাস অন্য শিশুর শরীরে প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের এক থেকে তিন দিনের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।

কী কী উপসর্গ দেখা যায়?

  • বারবার পাতলা পায়খানা
  • বমি
  • জ্বর
  • পেটে ব্যথা বা মোচড়
  • শরীরে জলশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)

শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত জলশূন্যতা তৈরি হতে পারে, তাই উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কী ভাবে রোগ নির্ণয় হয়?

সাধারণ ডায়রিয়া আর রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ার মধ্যে শুধু উপসর্গ দেখে পার্থক্য করা কঠিন। প্রয়োজন হলে মলের নমুনা পরীক্ষা করে ELISA বা PCR পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা উপসর্গের ভিত্তিতেই চিকিৎসা শুরু করেন, কারণ সময় নষ্ট করা বিপজ্জনক হতে পারে।

চিকিৎসা কী?

রোটা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল বা অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য শরীরে জল ও লবণের ঘাটতি পূরণ করা।

  • ওআরএস (ORS) নিয়মিত খাওয়ানো
  • প্রয়োজন হলে স্যালাইন দেওয়া
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া

এ ছাড়া শিশুদের রোটা ভাইরাসের টিকা সময়মতো নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে কী করবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্ষাকালে কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

  • বাইরের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। বাড়িতে তৈরি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ান। কাঁচা স্যালাড, চাটনি বা অপরিষ্কার খাবার না দেওয়াই ভাল।
  • আপাতত শিশুদের সুইমিং পুলে না পাঠানোই নিরাপদ। পুলের জল গিলে ফেললে বা সংক্রমিত কারও মাধ্যমে ভাইরাস সহজেই ছড়াতে পারে।
  • খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • শিশুর খেলনা, বোতল ও খাবারের পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

বর্ষাকালে সামান্য অসাবধানতাই শিশুদের গুরুতর অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাবার এবং সময়মতো চিকিৎসাই রোটা ভাইরাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *