বর্ষবরণের সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিটে পুলিশি নজরদারি
বর্ষবরণের রাত মানেই কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের জমজমাট ভিড়। তবে এবারের বর্ষবরণে সেই ভিড় ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। কলকাতা পুলিশের নিপুণ ব্যবস্থাপনা এবং কড়া নজরদারির ফলে পার্ক স্ট্রিটে বর্ষবরণ হয়েছে সংযত এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে।
বড়দিনের আগে থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল কলকাতা পুলিশ। সেই সময় থেকেই একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, বর্ষবরণের রাতেও পার্ক স্ট্রিটে ভিড় বেসামাল হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। আর ঠিক সেটাই করে দেখালেন কয়েক হাজার পুলিশকর্মী।
ভিড় সামলানোর বিশেষ পরিকল্পনা
বর্ষবরণের সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিটকে একটি ‘নো পার্কিং জ়োন’-এ পরিণত করা হয়েছিল। অ্যালেন পার্ক থেকে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট চত্বর পর্যন্ত রাস্তায় ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল রেলিংয়ের সাহায্যে। মির্জা গালিব স্ট্রিট এবং সেন্ট থমাস চার্চের দিক থেকে আসা মানুষের ঢল কখনোই রাস্তায় গাড়ির গতিরোধ করতে পারেনি।
বাইক কিংবা বড় গাড়ি নিয়ে কোনো দাপাদাপির সুযোগ ছিল না। পার্ক স্ট্রিটে গাড়ি দাঁড় করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। বাস এবং মেট্রোর মাধ্যমে যারা পার্ক স্ট্রিটে এসেছিলেন, তাদের নির্দিষ্ট পথ ধরে ঢোকার এবং বের হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মির্জা গালিব স্ট্রিটের দিক থেকে লাগামছাড়া জনতার ঢল পার্ক স্ট্রিটে সরাসরি প্রবেশ করতে পারেনি, যা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করেছে।
পর্যটকদের ভ্রমণে কিছু অসুবিধা
পুলিশি ব্যবস্থাপনার ফলে পার্ক স্ট্রিটের শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও কিছু পর্যটক এবং রেস্তরাঁয় আসা মানুষের জন্য এটি সমস্যার কারণ হয়েছে। অনেকেই গাড়ি পার্ক স্ট্রিটের বাইরে রেখে হেঁটে রেস্তরাঁয় পৌঁছেছেন। প্রিয় রেস্তরাঁয় জায়গা না পাওয়ার কারণে বিকল্প জায়গায় যেতে গিয়ে অনেকে লম্বা পথ ঘুরেছেন।
এছাড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে রাস্তায় জটলা করার অভ্যাসে যারা অভ্যস্ত, তাদের একটি অংশ পার্ক স্ট্রিটকে এড়িয়ে শহরের অন্যান্য জায়গায় চলে গিয়েছিল। ফলে বর্ষবরণের রাতে ময়দান, এসপ্লানেড এবং পার্ক স্ট্রিট চত্বরে তুলনামূলক কম ভিড় ছিল।
মহিলা সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ
পুলিশের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের রাতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল মহিলাদের নিরাপত্তার ওপর। শহরের ৫২টি স্থানে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার জন্য পুলিশি টহল জারি ছিল। পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে মহিলা পথচারীদের নির্ভয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের এক ছাত্র বলেন, “পুলিশের নজরদারির কারণে আমরা নিশ্চিন্তে ফুটপাতে হাঁটতে পারছি। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বেপরোয়া ভিড়ের অভাব
শহরের উত্তর, দক্ষিণ এবং পূর্বের বিভিন্ন গন্তব্যে বর্ষবরণের রাতে তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা গেলেও পার্ক স্ট্রিট চত্বর ছিল শান্ত। বাস এবং অন্যান্য গণপরিবহণেও ভিড় ছিল কম। কলকাতা পুলিশের নিখুঁত ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচারের ফলেই এমন পরিস্থিতি সম্ভব হয়েছে।
উপসংহার
বর্ষবরণের সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিটের পরিবেশ পুরোপুরি শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখা সম্ভব হয়েছে কলকাতা পুলিশের প্রশংসনীয় ব্যবস্থাপনার কারণে। ভিড়ের চাপে জনজীবন ব্যাহত হয়নি এবং পথচারীরা নিশ্চিন্তে পার্ক স্ট্রিটে ঘুরতে পেরেছেন। যদিও কিছু মানুষের জন্য এটি সামান্য অসুবিধার কারণ হয়েছে, তবে সুরক্ষা এবং শৃঙ্খলার দিক থেকে এটি ছিল নিখুঁত। বর্ষবরণের রাতে এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগ সত্যিই উদাহরণযোগ্য।