বলিউডে ফেরা নিয়ে মাহিরা খানের খোলাখুলি মত!
ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর বলিউডে আর ফেরা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নিজের দেশের বিনোদন জগতকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখার কথা বললেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান। তাঁর এই বক্তব্য এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
২০১৬ সালের পহেলগাঁও হামলার পরে ভারতে নিষিদ্ধ হন পাকিস্তানি শিল্পীরা। এর ঠিক ১৫ দিনের মাথায় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিতে চরম আঘাত হানে ভারতীয় সেনা। সেই সময় এই অভিযানের প্রকাশ্য নিন্দা করেন বলিউডে কাজ করা মাহিরা খান। এর পরেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। বলিউডের একাধিক ছবির প্রচার থেকে বাদ পড়েন মাহিরা, পোস্টার থেকেও তাঁর মুখ উধাও হয়ে যায়।
সম্প্রতি এক পাকিস্তানি অনুষ্ঠানে মাহিরাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার পরও কি তিনি ভবিষ্যতে বলিউডে কাজ করার ইচ্ছা রাখেন? জবাবে মাহিরা বলেন, “আমি সত্যিই চাই যে এবার আমাদের নিজেদের বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে মনোযোগ দেওয়া হোক। পাকিস্তানি সিনেমা এবং টেলিভিশনের গুণগত মান আরও উন্নত হোক—এই স্বপ্ন দেখি।”
তাঁর কথায়, “আমি বয়কট সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করি না। এটা শুধু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের জন্য নয়, বৃহত্তরভাবে সব জায়গাতেই আমি কোনও কিছুকে নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নই। তবে কখনও কখনও পরিস্থিতি আমাদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। কারণ, প্রত্যেকেই নিজের দেশের প্রতি অনুগত, এবং সেখান থেকেই প্রতিক্রিয়া আসে।”
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ব্যক্তিগত আক্ষেপ না করলেও মাহিরা জানিয়ে দেন, অতীত নিয়ে না ভেবে এখন ভবিষ্যতের দিকেই তাকাতে চান। “আমাদের নিজেদের ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করা উচিত। আমাদের সংস্কৃতি, ভাষা, শিল্প—এসব নিয়ে গর্ব করার সময় এসেছে। পাকিস্তানের সিনেমাকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যেতে হবে,” বলেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য, মাহিরা খান বলিউডে পা রাখেন ২০১৭ সালে, শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘রইস’ ছবির মাধ্যমে। তাঁদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের বেশ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা যেন এখন শুধুই অতীত।
মাহিরার এই অবস্থান অনেকেই ইতিবাচক বলে মনে করছেন। পাকিস্তানের মতো দেশের পক্ষে নিজের সংস্কৃতি এবং শিল্পকে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন। বিদেশি স্বীকৃতির অপেক্ষায় না থেকে নিজের মাটি থেকেই শুরু হোক নতুন যাত্রা—এমনটাই যেন বার্তা দিচ্ছেন মাহিরা।
বলিউডে ফিরবেন কি না, সে উত্তর ভবিষ্যতের হাতে। তবে আপাতত মাহিরা খান চান, তাঁর দেশ পাকিস্তানই হোক বিনোদনের শক্ত ঘাঁটি—নিজের ঘরের আলোতেই আলোকিত হোক মঞ্চ।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!