ফোন নম্বর নয়, এবার ‘ইউজ়ারনেমে’ হোয়াট্সঅ্যাপ!!
হোয়াট্সঅ্যাপে যোগাযোগের ধরন বদলে যেতে চলেছে। খুব শীঘ্রই ফোন নম্বর শেয়ার না করেও শুধু একটি ‘ইউজ়ারনেম’-এর মাধ্যমে অন্যের সঙ্গে চ্যাট করা যাবে। মেটার এই নতুন ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর গোপন রাখার সুযোগ মিলবে। প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যদিও ভারতে এটি চালুর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থাকে ঘিরে সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক এবং তারকাদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকের মতে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আবার অনেকে মনে করছেন, এতে ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, কাজের সূত্রে বহু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, অথচ সব সময় নিজের ফোন নম্বর দেওয়া প্রয়োজন হয় না। সেই দিক থেকে ‘ইউজ়ারনেম’ ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। তবে তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে তার নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক দিকগুলি ভাল ভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
অন্য দিকে অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত এই ফিচার নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। তাঁর আশঙ্কা, ভুয়ো ইউজ়ারনেম ব্যবহার করে অসাধু ব্যক্তিরা সহজেই অন্যকে বিভ্রান্ত বা বিরক্ত করতে পারে। তাঁর মতে, যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কাজের যোগাযোগ থাকে, তাঁদের কাছে ফোন নম্বর থাকাই স্বাভাবিক। তাই নম্বর গোপন রাখার প্রয়োজনীয়তা সব ক্ষেত্রে নেই।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও মতভেদ স্পষ্ট। অনেকেই মনে করছেন, নম্বর প্রকাশ না করেই যোগাযোগের সুযোগ পাওয়া বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, ফোন নম্বর থাকলে অপর পক্ষের পরিচয় সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয়। আইটি কর্মী পিয়ালি মাইতির মতে, খাবার সরবরাহ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বা বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রে অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়। সেখানে নিজের নম্বর গোপন রাখার সুযোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক সাম্যজিৎ মুখোপাধ্যায়ের মতে, ফোন নম্বর বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সরকারি নথি-সহ বহু পরিষেবা তার সঙ্গে যুক্ত। তাই নম্বর কম শেয়ার করা গেলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, শুধুমাত্র ইউজ়ারনেমের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার মেটার কাছে নতুন ফিচার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংবাদসংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ও নিরাপত্তা বিষয়ক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে এই পরিষেবা চালু করা হবে না।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতের ডিজিটাল যোগাযোগে ‘ইউজ়ারনেম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে এর সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার প্রযুক্তি এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা— এই তিনটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?