ফের শোকের ছায়া বলিউডে!
বলিউড আবারও হারাল এক পরিচিত মুখকে। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন অভিনেতা মুকুল দেব। জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল দেবের ছোট ভাই মুকুল, শুক্রবার রাতে দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বেশ কিছু দিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
প্রথমে খবরটি আসে অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ীর মাধ্যমে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, মুকুল আর আমাদের মধ্যে নেই। খবর ছড়াতেই শোকের ছায়া নেমে আসে টিনসেল টাউনে। বহু সহকর্মী, বন্ধু এবং অনুরাগীরা এই হঠাৎ বিদায়ে হতবাক। অভিনেত্রী দীপশিখা নাগপাল ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করে লেখেন, “মাত্র ৫৪-য় বন্ধু চলে গেল! এটা কী হল? আমি বিশ্বাস করতে পারছি না মুকস… RIP।”
মুকুল দেব: এক বহুমুখী প্রতিভার নাম
মুকুল ছিলেন একাধারে ছোট পর্দা ও বড় পর্দার পরিচিত মুখ। তাঁর অভিনয়ের হাতেখড়ি হয়েছিল টেলিভিশন দিয়ে, পরে সিনেমা জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন ধীরে ধীরে। প্রথম হিন্দি ছবি ‘দস্তক’-এ তাঁকে দেখা গিয়েছিল এক পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। একই ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী সুস্মিতা সেনও।
সলমন খানের ‘জয় হো’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছিল সমালোচকদের কাছেও। শুধু হিন্দি নয়, মুকুল কাজ করেছেন মালায়ালাম, গুজরাতি, পঞ্জাবি, মারাঠি, ইংরেজি এমনকি বাংলা চলচ্চিত্রেও। বাংলা ছবিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আওয়ারা’, ‘বচ্চন’, ‘সুলতান: দ্য স্যাভিয়ার’, যেখানে তিনি জিৎ-এর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন।
অভিনয়ের বাইরেও ছিল আলাদা পরিচয়
নয়াদিল্লিতে এক পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম মুকুল দেবের। তাঁর বাবা হরি দেব ছিলেন পুলিশ দফতরের সহকারী কমিশনার। বাবার হাত ধরেই ছোটবেলায় নানা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন মুকুল। আফগান সংস্কৃতি, পাশতু ও ফার্সি ভাষায় তাঁর ছিল প্রগাঢ় জ্ঞান। শুধুই অভিনয় নয়, মুকুল ছিলেন একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাইলটও। ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় উড়ান অ্যাকাডেমি থেকে পাইলটের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি।
বলিউড এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল
মুকুলের প্রয়াণে যেন এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। যাঁরা তাঁকে চিনতেন, জানতেন, তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন সপ্রতিভ, সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং মাটির মানুষ। তাঁর অনায়াস অভিনয়, ভাষার ওপর দখল এবং একাধিক ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আলাদা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল।
তিনি নেই, কিন্তু তাঁর কাজ আর স্মৃতি রয়ে যাবে ভক্তদের মনে। বলিউড তাঁকে মনে রাখবে একজন অনন্য প্রতিভা হিসেবে, যিনি কোনও প্রচারের আলো না চাইতেই নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন।
আপনার জিমেল আইডি কি অন্য কেউ ব্যবহার করছে? সতর্ক না হলে বিপদ ডেকে আনতে পারেন!