ফুটবলে ‘স্নিকোমিটার’-এর ছোঁয়া!!
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ‘স্নিকোমিটার’ খুবই পরিচিত একটি প্রযুক্তি। ব্যাটে বলের সামান্য স্পর্শও ধরতে এই প্রযুক্তি বছরের পর বছর ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার সেই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেল ফুটবলের বিশ্বমঞ্চেও।
2026 FIFA World Cup-এ Sweden বনাম Tunisia ম্যাচে এমনই এক নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয়, যেখানে প্রযুক্তির সাহায্যেই বদলে যায় রেফারির সিদ্ধান্ত।
কী ঘটেছিল?
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে মাঠে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল করেন সুইডেনের মিডফিল্ডার Mattias Svanberg। গোল হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন সতীর্থ, কোচ এবং সমর্থকেরা।
কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেন এবং গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
সুইডেনের আপত্তি
সুইডেনের খেলোয়াড়রা দাবি করেন, বলটি ভ্যানবার্গের কাছে যাওয়ার আগে সতীর্থ Alexander Isak-এর পায়ে স্পর্শ করেছিল। যদি তা হয়ে থাকে, তাহলে অফসাইডের সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।
বিষয়টি যাচাই করতে মাঠের রেফারি যোগাযোগ করেন VAR (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি)-এর সঙ্গে।
কীভাবে কাজ করল প্রযুক্তি?
বর্তমান বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বলগুলির মধ্যে বিশেষ সেন্সর ও এআই-চালিত চিপ বসানো রয়েছে। এই প্রযুক্তি বলের সঙ্গে খেলোয়াড়ের ক্ষুদ্রতম সংস্পর্শও শনাক্ত করতে পারে।
ক্রিকেটের স্নিকোমিটারের মতোই এই ‘বল-কনট্যাক্ট’ প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে VAR দেখতে পায় যে বলটি সত্যিই ইসাকের পায়ে লেগেছিল।
ফলে রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বদলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন।
আবার শুরু উল্লাস
গোল অনুমোদনের পর সুইডেনের শিবিরে আবার উৎসব শুরু হয়। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকেরা নতুন করে আনন্দে মেতে ওঠেন।
ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলে জেতে সুইডেন। সেই সময়ে এটি ছিল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়। এর আগে Germany ৭-১ গোলে হারিয়েছিল Curaçao-কে।
ফুটবলের ভবিষ্যৎ?
এই ঘটনা দেখিয়ে দিল, ফুটবলও দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। গোললাইন প্রযুক্তি, সেমি-অটোমেটেড অফসাইড এবং VAR-এর পর এখন বলের স্পর্শ শনাক্তকারী সেন্সরও ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
যে প্রযুক্তিকে ক্রিকেটে ‘স্নিকোমিটার’ বলে চেনা যায়, তারই আধুনিক ফুটবল সংস্করণ এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল ফিরিয়ে এনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?