ফিফার সেরা একাদশে ৭ জনে মিল, চার জায়গায় ভিন্ন মত!!
বিশ্বকাপ শেষ হতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক— প্রতিযোগিতার সেরা একাদশে কারা জায়গা পাওয়ার যোগ্য? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিজেদের বিশ্বকাপ সেরা একাদশ প্রকাশ করেছে ফিফা। একই সঙ্গে পারফরম্যান্সের নিরিখে নিজেদের পছন্দের একাদশ বেছে নিয়েছে আনন্দবাজার ডট কমও। দুই তালিকায় সাত জন ফুটবলারের নাম এক হলেও চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে স্পষ্ট মতপার্থক্য।
ফিফার একাদশে জায়গা পেয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের তিন জন, রানার্স আর্জেন্টিনার দুই জন, ফ্রান্সের তিন জন এবং ইংল্যান্ড, নরওয়ে ও কাবো ভার্দের একজন করে ফুটবলার। অন্যদিকে আনন্দবাজার ডট কমের একাদশে রয়েছেন স্পেনের তিন জন, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের দুই জন করে, ইংল্যান্ডের দুই জন এবং মিশর ও মরক্কোর একজন করে প্রতিনিধি।
গোলরক্ষক: ভোজ়িনহা না মোস্তাফা শোবের?
গোলরক্ষকের জায়গায় ফিফার ভরসা কাবো ভার্দের ভোজ়িনহা। গ্রুপ পর্বে স্পেনকে গোলশূন্য রেখে দেওয়া এবং নকআউটে ধারাবাহিক ভাল পারফরম্যান্সের সুবাদেই তিনি জায়গা পেয়েছেন।
তবে আমাদের মতে, এ বারের বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক মিশরের মোস্তাফা শোবের। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে লিয়োনেল মেসির পেনাল্টি বাঁচিয়ে ম্যাচে দলকে ফিরিয়ে আনেন তিনি। সেই ম্যাচেই ১২টি সেভ করেছিলেন শোবের। গোটা প্রতিযোগিতাজুড়েই তাঁর ধারাবাহিকতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলের ভরসা হয়ে ওঠার ক্ষমতাই তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।
রক্ষণ: তিন জনে মিল, বদল এক জায়গায়
রক্ষণে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ় ও মার্ক কুকুরেয়াকে নিয়ে দুই পক্ষেরই মত এক। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এই দুই ডিফেন্ডার গোটা প্রতিযোগিতায় ছিলেন অসাধারণ ধারাবাহিক।
তবে দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের জায়গায় ফিফা বেছে নিয়েছে ফ্রান্সের ডায়ট উপামেকানোকে। আমরা সেখানে রেখেছি স্পেনের তরুণ পাউ কুবারসিকে। মাত্র ২০ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিণত ডিফেন্ডারদের অন্যতম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন কুবারসি। পাশাপাশি তাঁর ৬১০টি সফল পাসও বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা পরিসংখ্যান।
রাইট ব্যাকেও রয়েছে মতভেদ। ফিফার পছন্দ স্পেনের পেদ্রো পোরো। আমাদের মতে, মরক্কোর আচরফ হাকিমিই ছিলেন এই পজ়িশনের সেরা ফুটবলার। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তোলাতেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য।
মাঝমাঠ: কোনও বিতর্কই নেই
মাঝমাঠে রদ্রি, জুড বেলিংহ্যাম এবং মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে দুই পক্ষই একমত।
রদ্রি গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও স্পেনের পুরো খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৭১৫টি সফল পাস তাঁর নামের পাশে। বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠার পাশাপাশি সাতটি গোলও করেছেন। আর ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে সাতটি অ্যাসিস্ট করে নিজেকে প্রতিযোগিতার সেরা প্লেমেকারদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আক্রমণে সবচেয়ে বড় মতভেদ
আক্রমণভাগেই সবচেয়ে বেশি পার্থক্য দেখা যায়।
ফিফার একাদশে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে, লিয়োনেল মেসি এবং আর্লিং হালান্ড।
আমাদের একাদশে অবশ্য সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে জায়গা পেয়েছেন হ্যারি কেন। শুধু ছয় গোল নয়, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা, বল ধরে রাখা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং প্রয়োজনে রক্ষণে নেমে সাহায্য করার ক্ষমতার জন্যই তিনি এগিয়ে। সেই কারণে এমবাপেকে বাঁ দিকের আক্রমণে রাখা হয়েছে, যেখানে তাঁর গতি ও কাট-ইন করার দক্ষতা সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
ডান দিকে লিয়োনেল মেসিকে নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। ৩৯ বছর বয়সেও আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, বড় ম্যাচে তিনিই এখনও সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
বিশ্বকাপ সেরা একাদশ
গোলরক্ষক: মোস্তাফা শোবের
রক্ষণ: আচরফ হাকিমি, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ়, পাউ কুবারসি, মার্ক কুকুরেয়া
মাঝমাঠ: রদ্রি, জুড বেলিংহ্যাম, মাইকেল ওলিসে
আক্রমণ: লিয়োনেল মেসি, হ্যারি কেন, কিলিয়ান এমবাপে
ফিফার নির্বাচনের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেও বলা যায়, বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ও কঠিন প্রতিযোগিতার শেষে সেরা একাদশ বেছে নেওয়া সব সময়ই মতের বিষয়। সেই কারণেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আমরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচে প্রভাব— এই তিনটি দিক বিচার করেই নেওয়া হয়েছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?