অশ্রুসজল পরিবেশে অনীক দত্তের শেষযাত্রায় টলিউড!
বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্তের শেষযাত্রা যেন হয়ে উঠল আবেগ, স্মৃতি আর শ্রদ্ধার এক মর্মস্পর্শী অধ্যায়। নন্দন চত্বর থেকে এনটি১ স্টুডিয়ো, তারপর কেওড়াতলা মহাশ্মশান— সর্বত্রই দেখা গেল শিল্পী, সহকর্মী, বন্ধু ও অনুরাগীদের ভিড়। কিন্তু দিনের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত ছিল কন্যা ঐশী দত্তের বাবাকে শেষ বিদায় জানানোর দৃশ্য।
বাবার অস্থিভস্ম হাতে নিয়ে ঐশী উপস্থিত সকলকে সঙ্গে নিয়ে গেয়ে ওঠেন অনীক দত্তের অত্যন্ত প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত, ‘পুরানো সেই দিনের কথা’। শোকস্তব্ধ পরিবেশে সেই গান যেন উপস্থিত সকলের চোখে জল এনে দেয়। অনেকেই আবেগ সামলাতে পারেননি।
সকাল থেকে শেষকৃত্যের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। এনটি১ স্টুডিয়োতে দেখা যায় অনীকের শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’-এর নায়ক আবীর চট্টোপাধ্যায়কে। পরিচালকের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রথম থেকেই তিনি পরিবারের পাশে ছিলেন।
প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান, অভিনেত্রী ও পরিচালক সুদেষ্ণা রায়, অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য, পরিচালক গৌতম ঘোষ, অভিনেতা সৌরভ দাস, জীতু কমল, সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়— সকলেই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। প্রত্যেকের মুখেই ছিল গভীর শোকের ছাপ।
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহল থেকেও অনীকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী অনীক দত্তকে লাল গোলাপ দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও পাপিয়া অধিকারীকেও শেষযাত্রায় দেখা যায়।
বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অভিনেতা জিতের উপস্থিতি। ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে খুব কমই দেখা যায় তাঁকে। অনীক দত্তের কোনও ছবিতে কাজ না করলেও, পরিচালকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি নিজে উপস্থিত হন, যা টলিউডের অনেককেই বিস্মিত করেছে।
অভিনেত্রী সৌরসেনী মৈত্রকে এ দিন কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। শোকাহত ছিলেন মনামী ঘোষও। গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তী জানান, মাত্র কয়েক দিন আগেই তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল পরিচালকের। তখনও তিনি কল্পনাও করতে পারেননি এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিবারের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে সৃজিত, পরিচালকের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকেই হাসপাতাল থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন।
অনীক দত্ত শুধু একজন সফল পরিচালক নন, বাংলা সিনেমার এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র জগত এক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টিশীল মানুষকে হারাল। তবে তাঁর কাজ, তাঁর সিনেমা এবং তাঁর প্রতি মানুষের ভালোবাসা তাঁকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখবে দর্শকের স্মৃতিতে।
শেষ বিদায়ের সেই মুহূর্তে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে যেন মিলেমিশে গিয়েছিল শোক, স্মৃতি আর শ্রদ্ধার এক অনন্ত অনুভূতি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?