প্রায় ৫০ কোটির চেক নিয়ে দুই বোনের রাধার বিবাদ!
একসময় দক্ষিণী চলচ্চিত্রে দুই বোনেরই ছিল দাপট। আশির দশকে অভিনেত্রী রাধা ও অম্বিকা দর্শকের কাছে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন। বহু বছর পর আবার তাঁদের নিয়ে আলোচনা, তবে এ বার কোনও ছবির কারণে নয়—পারিবারিক আর্থিক বিবাদকে কেন্দ্র করে।
বোন অম্বিকা নায়ার এবং ভাই মল্লিকার্জুন কুঞ্জন নায়ার ওরফে অর্জুন নায়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ করেছেন রাধা। সোমবার গ্রেটার চেন্নাইয়ের পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই পাল্টা বক্তব্য দিয়েছেন অম্বিকা। তাঁর দাবি, রাধার অভিযোগের মধ্যে “একটুও সত্যতা নেই”।
রাধার অভিযোগ অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাঙ্ক থেকে একটি বার্তা পেয়ে তিনি জানতে পারেন, অম্বিকার নামে তাঁর পাঁচটি চেক নগদ করার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে। চেকগুলির অঙ্ক যথাক্রমে ১১ লক্ষ, ১৩.১৭ কোটি, ২৭.৭৩ কোটি, ৭ কোটি এবং ১.৭৯ কোটি টাকা। বিষয়টি জানার পরই ওই চেকগুলির পেমেন্ট বন্ধ করার জন্য ব্যাঙ্কে আবেদন করেন রাধা।
অভিনেত্রীর দাবি, অম্বিকার সঙ্গে এমন কোনও আর্থিক লেনদেন তাঁর হয়নি, যার ভিত্তিতে ওই চেক ব্যবহার করা যেতে পারে। রাধা আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর ঘর থেকে সই করা ফাঁকা চেক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
অন্য দিকে, সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন অম্বিকা। তাঁর বক্তব্য, ছোটবেলা থেকে ভাইবোনের জন্য পরিশ্রম করার পর এখন তাঁর বিরুদ্ধেই ঘর থেকে চেক চুরির অভিযোগ উঠছে। অম্বিকার দাবি, রাধার আপ্তসহায়কই ওই পাঁচটি সই করা চেক দিয়েছিলেন। এর পিছনে ‘এআরএস’ সংস্থার সম্পত্তির অংশ এবং সোনার ভাগ নিয়ে একটি আর্থিক মীমাংসা ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে ‘এআরএস গার্ডেন্স’ নামের একটি সম্পত্তি। অম্বিকার দাবি, নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে তিনি সম্পত্তিটি তৈরি করেছিলেন। এমজি রামচন্দ্রনের আশীর্বাদে সেটির নামকরণ হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেই সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশ না পাওয়ার অভিযোগ থেকেই বিষয়টি আইনি পথে গড়িয়েছে বলে দাবি অম্বিকার।
পরিবারের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এখন বিষয়টি পুলিশের কাছে পৌঁছেছে এবং আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। তাই তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ্যে আর বেশি কিছু বলতে চান না অম্বিকা।
সই করা ফাঁকা চেক চুরির অভিযোগ নিয়েও পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অম্বিকার দাবি, রাধা নিজের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও জিনিসপত্র নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকেন এবং সেগুলি নম্বর-লক করা ব্যাগে রাখেন। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর ঘর থেকে চেক চুরি হয়েছে—এই অভিযোগ তাঁর কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
রাধা ও অম্বিকার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সত্যতা নির্ধারণ এখন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। ফলে অভিযোগগুলি প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।