প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন!
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃতী ছাত্রী ঋত্বিকা সাহা। শুক্রবার বিকেলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে কাঁচরাপাড়া পুরনো পোস্ট অফিসের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি স্কুটির পিছনের আসনে বসেছিলেন ঋত্বিকা। স্কুটিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের জেরে স্কুটিচালক ও ঋত্বিকা দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঋত্বিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
ঋত্বিকা সাহা ২০২৫ সালে আইটিআই-এর মেশিনিস্ট ট্রেডে ১২০০-র মধ্যে পূর্ণ ১২০০ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। সেই অসামান্য সাফল্যের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই কৃতিত্ব কাঁচরাপাড়া-সহ গোটা জেলার গর্ব হয়ে উঠেছিল।
ঋত্বিকার অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা। বীজপুরের বিধায়ক সুদীপ্ত দাস বলেন, এত কম বয়সে এমন প্রতিভাবান এক ছাত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁর মতে, ঋত্বিকার হাত ধরে ভবিষ্যতে কাঁচরাপাড়া আরও গর্বের মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারত, কিন্তু সেই সম্ভাবনা অকালে থেমে গেল।
একই সঙ্গে তিনি পথ নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর বক্তব্য, মোটরবাইক বা স্কুটিতে যাতায়াতের সময় হেলমেট ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিয়মিত এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচার চালানো হচ্ছে।
এক মেধাবী ছাত্রীর অকালপ্রয়াণে কাঁচরাপাড়ায় নেমে এসেছে শোকের আবহ। তাঁর সাফল্যের স্মৃতি এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন আজ অপূর্ণ থেকে গেল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?