প্রতিশ্রুতি রক্ষা চক্রবেড়িয়ায়: মাইক-বিতর্কের পর ৮৭ মিনিটের পদযাত্রায় জমল মমতার প্রচার

প্রতিশ্রুতি রক্ষা চক্রবেড়িয়ায়! শনিবারের অসমাপ্ত সভার জবাব দিলেন রবিবারই। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় মাইক-বিতর্কে সভা ছেড়ে যাওয়ার সময় কথা দিয়েছিলেন—পরের দিন ফিরবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেই রবিবার বিকেলে জনস্রোত সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পদযাত্রায়…

April 27, 2026
1 min read

প্রতিশ্রুতি রক্ষা চক্রবেড়িয়ায়!

শনিবারের অসমাপ্ত সভার জবাব দিলেন রবিবারই। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় মাইক-বিতর্কে সভা ছেড়ে যাওয়ার সময় কথা দিয়েছিলেন—পরের দিন ফিরবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রেখেই রবিবার বিকেলে জনস্রোত সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘ পদযাত্রায় নামলেন Mamata Banerjee।

বিকেল ৪টে ১৫ নাগাদ চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে শুরু হয় এই পদযাত্রা। কালীঘাট রোড, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ ভবানীপুরের একাধিক এলাকা ঘুরে মিছিল এগোয়। কখনও সরু গলি, কখনও বড় রাস্তা—এলাকা জুড়ে প্রায় ৮৭ মিনিট ধরে চলা এই পদযাত্রা শেষ হয় হাজরা ফায়ার ব্রিগেডের সামনে, সন্ধ্যা ৫টা ৪২ মিনিটে।

এই পদযাত্রা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল সরাসরি জনসংযোগেরও এক বড় মঞ্চ। হাঁটতে হাঁটতে বারবার থেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। কখনও হাত নেড়ে অভিবাদন, কখনও আবার ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়া মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ছিল একেবারে ঘনিষ্ঠ জনসম্পর্কের ছবি।

পথের দু’ধারে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ছোট্ট শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই দাঁড়িয়েছিলেন প্রিয় নেত্রীকে একবার দেখার আশায়। এক শিশুর হাতে ছিল ‘জয় বাংলা’ লেখা গোলাপ। আবার এক মহিলা ভিড় ঠেলে এগিয়ে এসে মমতার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন—যদিও তাঁকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন মমতা নিজেই। এই সব ছোট ছোট মুহূর্তই পদযাত্রাকে আরও জীবন্ত করে তোলে।

রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ছাড়াও বাড়ির ছাদ, বারান্দা, জানলাতেও চোখে পড়ে দর্শকদের ভিড়। ঢাকের তালে, গান-বাজনার মধ্যে দিয়ে এগোতে থাকে মিছিল। পুরো সময় জুড়ে মমতার পাশে ছিলেন Firhad Hakim।

এই পদযাত্রার পেছনে ছিল আগের দিনের এক অস্বস্তিকর ঘটনা। শনিবার চক্রবেড়িয়ায় একটি সভা চলাকালীন কাছেই বিজেপির মাইক প্রচার শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই পরিস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে সভা শেষ করতে বাধ্য হন মমতা। মঞ্চ থেকেই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের আচরণ “অসভ্যতামি” এবং এতে সভা করা সম্ভব নয়। সেই সময়ই তিনি পরের দিন পদযাত্রার প্রতিশ্রুতি দেন।

রবিবারের কর্মসূচি ছিল সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ। রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি এই পদযাত্রা স্পষ্ট করে দিল, বিতর্ক বা বাধা এলেও মাঠ ছাড়তে নারাজ তৃণমূল নেত্রী। বরং আরও বড় করে জনসংযোগের মাধ্যমে জবাব দিতে প্রস্তুত তিনি।

সব মিলিয়ে, চক্রবেড়িয়ার এই পদযাত্রা শুধু একটি প্রচার কর্মসূচি নয়—এ যেন রাজনৈতিক বার্তা, জনসংযোগ আর আবেগের এক মিশেল, যা নির্বাচনের আবহে নতুন মাত্রা যোগ করল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *