পেটের মেদ কিছুতেই কমছে না?
যাঁরা অতিরিক্ত পেটের মেদ নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের জন্য ডায়েট আর শরীরচর্চার পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট সব্জিকে খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। শুধু শরীরচর্চা করলেই হবে না—সেই সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক খাওয়াদাওয়ার অভ্যাস। আর তাতে এই পাঁচটি সব্জি রাখতে পারলে শরীর থাকবে হালকা, পেট ভরাও থাকবে দীর্ঘক্ষণ, এবং কমবে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা। তবে আগে এটাও জানা দরকার, আপনি যদি এখনও রোজের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি, তেলে ভাজা খাবার, বা অনিয়মিত জীবনযাপন বজায় রাখেন, তাহলে শুধু সব্জির উপর নির্ভর করে মেদ ঝরবে না। তবু যারা ইতিমধ্যে সচেতন হয়েছেন, তাঁদের জন্য এই সব্জিগুলি হতে পারে ওজন কমানোর বিশ্বস্ত সঙ্গী।
প্রথমেই আসি শাকপাতায়। পালং, মেথি, লাল শাক কিংবা অন্যান্য শাকপাতা—সবগুলিতেই ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম, কিন্তু ফাইবারে ভরপুর। শাক খেলে অনেক ক্ষণ পেট ভর্তি থাকে, ফলে খিদে কম পায়। তার উপরে এগুলিতে থাকে ভিটামিন এ, সি ও কে, যা হজমের জন্য উপকারী এবং রোজকার পুষ্টির চাহিদাও মেটায়।
দ্বিতীয়ত, কপি জাতীয় সব্জি। ব্রকোলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি কিংবা ব্রাসেলস স্প্রাউটস—এই ধরনের সব্জিতে ফাইবার বেশি, ক্যালোরি কম। এগুলো পেট অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে শুধু ওজন নয়, হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
তৃতীয়ত, জলের পরিমাণ বেশি এমন সব্জি। যেমন লাউ, শসা, ঝিঙে, চিচিঙ্গে। এগুলো জলসমৃদ্ধ হওয়ায় শরীরে জলতুষ্টি বজায় রাখে, আবার ক্যালোরিও বাড়ায় না। ফলে ইচ্ছেমতো খেলেও শরীরে ওজন বাড়ার ভয় নেই। ডায়েটে এই ধরনের সব্জি নিয়মিত রাখলে শরীর থাকে হালকা এবং সুস্থ।
চতুর্থ সব্জিটি হল ক্যাপসিকাম। ক্যাপসিকাম শুধু রঙেই নজরকাড়া নয়, গুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও ক্যাপসাইসিন, যা শরীরের বিপাক হার বাড়ায় এবং ফ্যাট বার্নে সাহায্য করে। কম ক্যালোরি ও উচ্চ পুষ্টিগুণের জন্য ক্যাপসিকাম রোজকার ডায়েটে রাখা যেতেই পারে।
পঞ্চম ও শেষত, মাশরুম। এটি অনেকের প্রিয় হলেও কেউ কেউ এড়িয়ে যান ভুল ধারণা থেকে। অথচ মাশরুমে ক্যালোরি কম, অথচ প্রোটিন ও ফাইবার বেশ। যারা মাংস খেতে চান না বা কম খাচ্ছেন, তাঁদের জন্য আদর্শ বিকল্প হতে পারে মাশরুম। এটি পেট ভরিয়ে রাখে এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে ওজনও সহজে বাড়ে না।
এই সব্জিগুলো যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তবে শরীর যেমন থাকবে সুস্থ, তেমনই পেটের অতিরিক্ত মেদও ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে সব কিছুর আগে দরকার সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাস। কারণ, সুস্থ শরীর গড়ে ওঠে সঠিক খাদ্য এবং সঠিক সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করেই।
মুম্বইয়ের বৃষ্টিতে ভিজে দীপিকার প্রথম প্রেম: মুজ্জামিল ইব্রাহিমের উজাড় স্মৃতির কথা