পুরীর রত্নভান্ডার সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু হোক: মন্দির কর্তৃপক্ষের আবেদন

পুরীর রত্নভান্ডার পুরীর ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের সংস্কারের কাজ শুরুর জন্য ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর কাছে আবেদন জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। গত জুলাই মাসে প্রায় ৪৬ বছর পর পুরীর রত্নভান্ডার খোলার…

November 24, 2024
1 min read

পুরীর রত্নভান্ডার

পুরীর ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের সংস্কারের কাজ শুরুর জন্য ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)-এর কাছে আবেদন জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। গত জুলাই মাসে প্রায় ৪৬ বছর পর পুরীর রত্নভান্ডার খোলার পর একটি জরিপ করা হয়েছিল, যাতে রত্নভান্ডারের বর্তমান অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই রিপোর্টে রত্নভান্ডারের বিভিন্ন অংশে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এখন, সেই সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ এএসআইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

জরিপ রিপোর্টের খুঁটিনাটি

২০২৪ সালের জুলাই মাসে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের দরজা প্রায় পাঁচ দশক পর খোলা হয়। রত্নভান্ডারের ভিতরের প্রকোষ্ঠ দুটি খোলার পর, এএসআই এক বিশেষ জরিপ চালায়। তারা রত্নভান্ডারের মেঝে, দেওয়াল ও অন্যান্য স্থাপত্যের অবস্থান পর্যালোচনা করে এবং জানান যে, কিছু অংশে অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হতে পারে। ৪৫ পাতার ওই রিপোর্টটি মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছেছে। এখন, মন্দির পরিচালন কমিটি দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করার পক্ষে।

মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

জগন্নাথ মন্দিরের প্রশাসক অরবিন্দ পাধী জানিয়েছেন, “আমরা এএসআইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। রত্নভান্ডারের সংস্কারের কাজ যেন দ্রুত শুরু হয়, সেই জন্য আমরা তাঁদের সকল ধরনের সাহায্য প্রদান করতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “এএসআই যে জিপিআর ও জিপিএস সমীক্ষা চালিয়েছিল, তার রিপোর্ট আমরা পেয়েছি এবং আমরা নিশ্চিত যে রত্নভান্ডারের নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রত্নভান্ডারের অবস্থার জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন

জরিপ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রত্নভান্ডারের মেঝে এবং দেওয়াল বিভিন্ন জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। মন্দির কর্তৃপক্ষও এই আশঙ্কা করছেন এবং এএসআইকে তাগিদ দিয়েছেন যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা হয়।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর খোলা রত্নভান্ডার

পুরীর রত্নভান্ডারের খোলার পর বহু বছরের পুরানো ধুলোমাখা ঐতিহ্য আবার জীবিত হয়ে ওঠে। প্রথমে রত্নভান্ডারের বহিঃপ্রকোষ্ঠ খোলা হয়, এবং পরে ভিতরের প্রকোষ্ঠও খোলা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম রত্নভান্ডারটি খোলা হয়, যার ফলে পুরীর এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সংস্কারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে, পুরীর রত্নভান্ডারে সংস্কারের কাজ শুরুর জন্য এএসআই-এর রিপোর্ট হাতে এসে পৌঁছেছে এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ সেই অনুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত। পুরীর এই ঐতিহাসিক মন্দির এবং তার রত্নভান্ডারের সংস্কার কাজের মাধ্যমে রক্ষিত হবে ভারতের এক অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই সংস্কারের কাজ যদি দ্রুত শুরু হয়, তবে এটি শুধু পুরী মন্দিরের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, পাশাপাশি, ভক্তদের জন্যও একটি নিরাপদ এবং শ্রদ্ধার স্থান হিসেবে তা কাজ করবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *