পুরীকে ছুটি দিন, ভুবনেশ্বরকেই নতুন করে চিনুন!
ওড়িশা বললেই বাঙালির মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে পুরীর কথা—জগন্নাথ দর্শন, সমুদ্রের ঢেউ আর রসগোল্লার স্বাদ। পুরী ঘুরে ফেরার পথে ভুবনেশ্বর যেন অনেক সময়ই ‘স্টপওভার’ হয়ে থাকে। কিন্তু একটু চেনা ছকের বাইরে গেলে বুঝবেন, ভুবনেশ্বর নিজেই একটি সম্পূর্ণ ট্রাভেল ডেস্টিনেশন। হাতে যদি দু’-তিন দিন সময় থাকে, তবে এই শহরেই লুকিয়ে থাকা তিনটি স্বল্প পরিচিত জায়গা আপনাকে দেবে একেবারে অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
🌿 বারুনি পাহাড় ও বারুনি মাতা মন্দির
ভুবনেশ্বর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে খুরদা জেলায় অবস্থিত বারুনি পাহাড়। অরণ্যঘেরা এই পাহাড়ে রয়েছে বারুনি মাতা মন্দির, যা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। রাস্তা ধরে কিছুটা উঠলে সিঁড়ি শুরু হয়, তার পর বাঁধানো পথ ছেড়ে পায়ে হেঁটে উঠতে হয় চূড়ার দিকে।
শীতের মরসুম এখানে ট্রেকিংয়ের জন্য আদর্শ। চারপাশের সবুজে ঢাকা পাহাড় আর নীরবতা মনকে মুহূর্তে শান্ত করে দেয়। চূড়ায় পৌঁছে শহরের দূরদূরান্ত দেখা যায়—ব্যস্ত ভুবনেশ্বর যে এত কাছে, তা বিশ্বাসই হবে না। পুরো ট্রেক করতে ৪–৫ ঘণ্টা সময় ধরুন। সঙ্গে জল, হালকা খাবার আর অবশ্যই ক্যামেরা রাখবেন।
💧 দেরাস ড্যাম ও চন্দ্রকা-ডাম্পারা অভয়ারণ্য
ভুবনেশ্বর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে দেরাস জলাধার। চার দিকে পাহাড়, জঙ্গল আর শান্ত জলের আয়না—সব মিলিয়ে জায়গাটা যেন শহরের কোলাহল থেকে একেবারে আলাদা এক জগৎ। বর্ষায় জলাধার টইটম্বুর থাকে, তবে শীতের আবহাওয়ায় এখানকার সৌন্দর্য আরও উপভোগ্য।
দেরাসের পাশেই রয়েছে ১৯৩ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত চন্দ্রকা-ডাম্পারা অভয়ারণ্য। হাতি, চিতল, বার্কিং ডিয়ার, ময়ূর—বন্যপ্রাণের দেখা মিলতে পারে সাফারিতে। প্রকৃতির কোলে এক রাত কাটাতে চাইলে ওড়িশা সরকারের দেরাস নেচার ক্যাম্পে রাত্রিবাসের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা ওড়িশা ইকো-ট্যুরিজ়মের ওয়েবসাইট থেকে বুক করা যায়।
🌊 তাপাং—নীলাভ হ্রদের বিস্ময়
ভুবনেশ্বর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে নিজগড় অঞ্চলে অবস্থিত তাপাং। এক সময়ের পরিত্যক্ত খনি আজ প্রকৃতির হাতে রূপ নিয়েছে নীলাভ-সবুজ হ্রদে। চার দিকের পাহাড় আর শান্ত জল মিলিয়ে জায়গাটি দেখে মনে হবে, যেন বিদেশের কোনও ক্যানিয়নে এসে পড়েছেন।
সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় তাপাং সবচেয়ে সুন্দর। ইদানীং পর্যটকদের আগ্রহ বাড়লেও এখনও ভিড় খুব বেশি নয়—যা এই জায়গার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
কোথায় থাকবেন ও কী ভাবে যাবেন?
ভুবনেশ্বরে সব রকম বাজেটের হোটেল রয়েছে। তবে আলাদা অভিজ্ঞতার জন্য দেরাস নেচার ক্যাম্পে থাকা যেতে পারে।
হাওড়া বা সাঁতরাগাছি থেকে নিয়মিত ট্রেন রয়েছে। ধর্মতলা থেকে এসি বাসও মেলে। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ৪৪১ কিলোমিটার—গাড়িতে ৮–১০ ঘণ্টায় পৌঁছনো সম্ভব।
নতুন বছরে যদি ভিড়ের বাইরে গিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তবে পুরী নয়—এ বার গন্তব্য হোক শুধুই ভুবনেশ্বর। এই তিনটি জায়গা আপনার ভ্রমণের সংজ্ঞাই বদলে দেবে। 🌄✨
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা