অক্টোবরে শুরু বিশেষ উদ্যোগ
পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশেই পুজোর পর শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা এসআইআর। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে আলোচনা চলছিল, কিন্তু এবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল অক্টোবরেই এই কাজ শুরু হতে পারে।
আগামী ২ অক্টোবর দুর্গাপুজো শেষ হবে। তার পর রয়েছে লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজো। কমিশনের পরিকল্পনা, এই উৎসবমুখর সময় শেষ হলেই দেশের সব রাজ্যে একযোগে শুরু হবে এসআইআর। এর আগে কেবল বিহারে এই প্রক্রিয়া শুরু হলেও এ বার তা দেশের সর্বত্রই কার্যকর হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আগামী বছরই এখানে বিধানসভা নির্বাচন। উল্লেখযোগ্য, শেষবার ২০০২ সালে রাজ্যে এসআইআর হয়েছিল। প্রায় দু’দশক পর আবার সেই প্রক্রিয়ায় নামছে কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এলাকাভিত্তিক খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে।
তবে বিহারে এসআইআর নিয়ে বড় বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। সেখানকার খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। সেই ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রথমদিকে কমিশন জানিয়েছিল, আধার কার্ডকে ভোটার তালিকার পরিচয়পত্র হিসেবে ধরা হবে না। এ সিদ্ধান্ত ঘিরেই প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলি, বিশেষত তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের আড়ালে আসলে ‘এনআরসি’-র মতো প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর যুক্তি ছিল, বহু বছর আগে জন্ম নেওয়া মানুষের জন্মশংসাপত্র পাওয়া কার্যত অসম্ভব।
পরিস্থিতি ঘিরে আদালতের দিকনির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আধার কার্ড ব্যবহার করা যাবে। তবে এটি কখনওই নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। আপাতত এই নিয়ম কেবল বিহারের জন্য প্রযোজ্য হলেও ভবিষ্যতে তা অন্য রাজ্যেও কার্যকর হতে পারে। আদালতের রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রীও পরামর্শ দেন, যাঁদের আধার কার্ড নেই, তাঁরা তা তৈরি করে নিন। তবে তিনি এ-ও মনে করিয়ে দেন, এসআইআর এক-দু’মাসে শেষ করা সম্ভব নয়, এর জন্য তিন-চার বছর সময় লাগে।
এই আবহেই বুধবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে বড়সড় বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর কমিশনাররা। দেশের সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকরাও ওই বৈঠকে যোগ দেন। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এসআইআর এবং তা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগ দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে চলেছে। যদিও বিহারের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে আশঙ্কা ও বিতর্কও উত্থাপিত হচ্ছে, তবুও কমিশনের লক্ষ্য পরিষ্কার—ভোটার তালিকা যেন হয় সঠিক, স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ