পুজোর কাজে লাগা ফুল থেকে তৈরি ভেষজ আবির?
পুজোর শেষে যে ফুল আর পাতা ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলো নিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর দমদম পুরসভা। এই ফুল-পাতা থেকে তৈরি হচ্ছে ভেষজ আবির এবং ধূপকাঠি। পুরসভার এই অভিনব প্রকল্প শুধু পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে না, বরং কর্মসংস্থানের নতুন পথও খুলে দিচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ: পুজোর ফুল-পাতার পুনর্ব্যবহার
উত্তর দমদম পুরসভা পুজোর সময় ব্যবহার হওয়া ফুল এবং পাতা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করার কাজ অনেক আগেই শুরু করেছিল। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কেজি ফুল সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ফুল থেকে ভেষজ আবির এবং ধূপকাঠি তৈরির একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগে মূল কাজটি করেছেন স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। এতে তাঁদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গুণমান যাচাই ও শংসাপত্র
উৎপাদিত ধূপকাঠি ও ভেষজ আবিরের গুণমান যাচাইয়ের জন্য সেগুলি দু’টি পৃথক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রাপ্ত শংসাপত্র এই উদ্যোগের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি করেছে। এই শংসাপত্র পাওয়ার পরই পুর প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই পণ্য শুধু দেশের বাজারেই নয়, বিদেশেও রপ্তানি করা হবে।
কর্মসংস্থানের নতুন দিশা
পুরসভা মনে করছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আয় বৃদ্ধির সুযোগ হবে। শুধু যে ফুল সংগ্রহ বা প্রক্রিয়াকরণে যুক্ত মহিলাদের জন্য তা নয়, বরং পুরসভার আয়ের পথও সুগম হবে। নগরোন্নয়ন দফতর (সুডা)-এর পরামর্শে এই বিপণন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে।
বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি প্রচার পেলে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা খুলে যাবে।
আবির ও ধূপকাঠি বিপণনের প্রস্তুতি
উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, পুজোর পরে ব্যবহৃত ফুল ও পাতা থেকে তৈরি ভেষজ আবির এবং ধূপকাঠির গুণমান ইতিমধ্যেই পরীক্ষিত হয়েছে। এবার সেই সামগ্রী বিপণনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বিপণনের দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে না, পণ্যের ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিংকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
এই প্রকল্প শুধু কর্মসংস্থানই নয়, পরিবেশ সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। পুজোর পরে যেসব ফুল ও পাতা নদীতে ফেলা হয়, তা থেকে জল দূষণ ঘটে। এই ফুল পুনর্ব্যবহার করে এমন পণ্য তৈরি হওয়ায় পরিবেশের উপর চাপ কমছে। পাশাপাশি, ফুল ও পাতার পুনর্ব্যবহার নতুন প্রজন্মের কাছে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
পুরসভার এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিপণনের কাজ সম্পূর্ণ হলে, উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হবে। স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটি পরিচিত করতে একটি শক্তিশালী বিপণন কৌশল তৈরি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি উত্তর দমদম অঞ্চলের আর্থিক উন্নতিতেও ভূমিকা নেবে।
উত্তর দমদম পুরসভার এই অভিনব উদ্যোগ শুধুই পরিবেশ সচেতনতার একটি দৃষ্টান্ত নয়, বরং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়া একটি সফল প্রচেষ্টা। ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও বৃহত্তর হতে পারে, যদি সঠিক বিপণন এবং সচেতনতার মাধ্যমে এই প্রকল্পকে জনপ্রিয় করা যায়।