পাল্টেছে পাঠ্যক্রম, তৃতীয় সিমেস্টারের বই দ্রুত প্রকাশের দাবি

পাল্টেছে পাঠ্যক্রম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় সিমেস্টারের পাঠ্যবই দ্রুত প্রকাশের জন্য শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র দাবি উঠেছে। তাঁদের মতে, গত কয়েক বছরে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন এবং বই প্রকাশে দেরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী…

January 25, 2025
1 min read

পাল্টেছে পাঠ্যক্রম

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তৃতীয় সিমেস্টারের পাঠ্যবই দ্রুত প্রকাশের জন্য শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র দাবি উঠেছে। তাঁদের মতে, গত কয়েক বছরে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন এবং বই প্রকাশে দেরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তৃতীয় সিমেস্টারের বইও দ্রুত বাজারে আসলে শিক্ষকরা সহজে শিক্ষার্থীদের পড়াতে পারবেন এবং সময়মতো পাঠদান নিশ্চিত করা যাবে।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রথম এবং দ্বিতীয় সিমেস্টারের পাঠ্যবই যথাসময়ে প্রকাশ না হওয়ায় অনেক স্কুলে শিক্ষকদের জন্য একটি অস্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পাঠ্যক্রম পরিবর্তিত হওয়ার কারণে নতুন বই পড়তে গিয়ে শিক্ষকদেরও কিছুটা সময় লেগেছিল। তাছাড়া, অনেক ছাত্রছাত্রীও বই পেতে দেরি করেছিল। সেক্ষেত্রে, তৃতীয় সিমেস্টারের বই সময়মতো প্রকাশিত হলে তা শিক্ষকদের এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুবিধা বয়ে আনবে।

শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বাংলা এবং ইংরেজি বই শিক্ষা দফতর থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হলেও, অন্যান্য বিষয়ের বই পড়ুয়াদের কিনতে হয়। এবার বাংলা এবং ইংরেজি পাঠ্যক্রমে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, বিশেষ করে তৃতীয় সিমেস্টারে। যেমন, বাংলা বইয়ে নতুন গল্প, কবিতা এবং নাটক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এইসব নতুন বিষয় পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের হাতে বই থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা পড়ানো শুরু করার আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

বাংলার এক শিক্ষিকা সুমনা সেনগুপ্ত জানান, “নতুন বই হাতে পেলে আমরা শিগগিরই প্রস্তুতি নিতে পারব। তৃতীয় সিমেস্টারের বই প্রকাশিত না হলে আমাদের পড়ানোর প্রক্রিয়ায় সমস্যা হবে। দ্বিতীয় সিমেস্টারের পরীক্ষা এবং উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার সময় প্রায় একত্রিত হয়ে যায়, ফলে শিক্ষকদের হাতে সময় কম থাকে। যদি তৃতীয় সিমেস্টারের বই দ্রুত প্রকাশিত হয়, তবে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠানো সম্ভব হবে।”

উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তৃতীয় সিমেস্টারের বইগুলো প্রকাশকদের কাছ থেকে আসতে শুরু করেছে এবং রিভিউ কমিটিতে পাঠানো হবে। বইগুলো বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পর্যালোচনা হওয়ার পরই তাদের টেক্সট বুক নম্বর (টিবি নম্বর) দেওয়া হবে, যাতে প্রকাশকরা বই ছাপাতে পারেন। তবে, প্রকাশকদের একটি অংশ মনে করছেন যে, প্রক্রিয়াটি অনেক সময়সাপেক্ষ এবং গতবারও এই প্রক্রিয়াতে দেরি হয়েছিল। কলকাতা শহরের এক পাঠ্যবই প্রকাশক দেবাঞ্জন মণ্ডল বলেন, “বই সংসদে জমা দেওয়া থেকে শুরু করে টিবি নম্বর পাওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া অনেক সময় নেয়। গতবার প্রথম সিমেস্টারের বইয়ের প্রকাশেও সময় লেগেছিল।”

তবে, সংসদ-সভাপতির মতে, তৃতীয় সিমেস্টারের বইয়ের প্রকাশে কোনো দেরি হবে না। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, বইগুলোর দ্রুত ছাপানো এবং বাজারে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষকদের মতে, তৃতীয় সিমেস্টারের বই প্রকাশিত হলে তারা শিক্ষার্থীদের আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করতে পারবেন এবং পাঠদানে কোনোরকম বাধা সৃষ্টি হবে না।

শিক্ষকদের এই দাবিটি একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে, তেমনই শিক্ষকদেরও একটি সুসংগত পাঠদান পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই দ্রুত বই প্রকাশের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়ে গেছে।

হেলে পড়া বাড়ি: শাসক ও বিরোধীদের তরজা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *