জামাইষষ্ঠীতে শাশুড়িদের মানতেই হবে এই ৭টি শুভ টোটকা
১ জুন, রবিবার। বাঙালির ঘরে ঘরে আবারও ফিরছে সেই প্রাণের উৎসব—জামাইষষ্ঠী। বছরের এই একটি দিনে জামাইদের রাজকীয় আদর-আপ্যায়নে শাশুড়িরা হয়ে ওঠেন একান্ত নিবেদিত। পুজোর থালায় সাজানো হয় দেবী ষষ্ঠীর চরণে নিবেদনের সামগ্রী, আর রান্নাঘরে তৈরি হয় পায়েস, লুচি, চিংড়ি-ইলিশের মহাভোজ। তবে শুধুই খাওয়া-দাওয়া নয়, শুভ শক্তির আশীর্বাদ পেতে মেনে চলা হয় একাধিক টোটকা।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সঠিক নিয়মে পুজো ও রীতি মানলে মেয়ে-জামাইয়ের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী। তাই শুধু আয়োজন করলেই হবে না, শাশুড়িদের মনে রাখতে হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম, যা একদিকে যেমন ঐতিহ্য বহন করে, তেমনি অন্যদিকে ঘরে টেনে আনে ইতিবাচক শক্তি।
১. ষষ্ঠীর পুজোয় তেল-হলুদ অর্পণ
দিনের শুরুটা হোক দেবী ষষ্ঠীর পুজো দিয়ে। পুজোর সময় দেবীর চরণে কিছুটা তেল ও হলুদ নিবেদন করুন। এরপর সেই হলুদই জামাইয়ের কপালে তিলক হিসেবে দিন। বিশ্বাস, এই তিলকে সুখ-সৌভাগ্য প্রবাহিত হয় জামাইয়ের জীবনে।
২. কপালে দইয়ের ফোঁটা
জামাইষষ্ঠীর বিশেষ মুহূর্তে জামাইয়ের কপালে একফোঁটা দই লাগানো খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। এই ছোট্ট আচারটি শান্তি ও শীতলতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
৩. সুতোয় বাঁধা আশীর্বাদ
একটি হলুদ রঙের সুতোয় দূর্বা ও ফুলের মালা বেঁধে মা ষষ্ঠীর পায়ে রেখে পুজো দিন। পুজোর শেষে সেই সুতো জামাইয়ের হাতে বেঁধে দিন, যাতে তার জীবনে মঙ্গল ও রক্ষাকবচের প্রভাব থাকে সারা বছরজুড়ে।
৪. হলুদের পোশাক উপহার
এই দিন জামাইকে হলুদ রঙের নতুন জামাকাপড় উপহার দিন। শুধু উপহার দিলেই চলবে না, আশীর্বাদের সময় জামাইকে সেই পোশাক পরেই বসতে বলুন। হলুদ রং শুভতা ও উজ্জ্বলতার প্রতীক, যা সংসারে সুখ ও আলো নিয়ে আসে।
৫. একা নয়, একসঙ্গে আসা চাই
এই দিন জামাই যেন শ্বশুরবাড়িতে একা না আসেন। মেয়ে-জামাই একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে তা সৌভাগ্যের বার্তা দেয় বলে মনে করা হয়।
৬. পায়েস তো মাস্ট!
খাবারের টেবিল যতই জমজমাট হোক না কেন, পায়েস না থাকলে জামাইষষ্ঠীর আসর যেন অপূর্ণই থেকে যায়। এই দিনে ঘরের তৈরি দুধ-চালের পায়েস জামাইকে খাওয়ানো অত্যন্ত শুভ। সঙ্গে নানারকম মিষ্টিও পরিবেশন করুন—এতে সম্পর্ক হয় আরও মধুর।
৭. ডাবের জল পরিবেশন করুন
গ্রীষ্মের এই সময়ে শরীর ঠান্ডা রাখতে জামাইকে ডাবের জল পরিবেশন করাও এক শুভ রীতি। এটি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি অতিথি আপ্যায়নেরও একটি ঐতিহ্যবাহী দিক।
জামাইষষ্ঠী শুধুই একটি উৎসব নয়, বরং একটি আন্তরিক পারিবারিক সংযোগের প্রতীক। একটু যত্ন, একটু নিয়ম আর প্রচ্ছন্ন আশীর্বাদে গড়ে ওঠে ভালোবাসার পরিপূর্ণতা।
৭৫-এ সুদৃঢ়, জিমে ঝড় তুলছেন রাকেশ রোশন! ফিট থাকার ৭টা সিক্রেট এক্সারসাইজ